প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো যখন ইসরায়েলের সাথে দূরত্ব তৈরি করছে, তখন নরেন্দ্র মোদীর ভারত উল্টো পথে হেঁটে তেল আবিবের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই পরিবর্তন এবং ভারতের নীতিগত পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
পশ্চিমাদের দূরত্ব, ভারতের নিবিড় সখ্য
যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্ররা অবৈধ বসতি স্থাপন ও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে এবং বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করছে, সেখানে ভারত উন্মুক্ত বাহুতে তাদের স্বাগত জানাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইউরোপে নিষিদ্ধ হলেও ভারতে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং একাধিক বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসরায়েল সফর করেন। সেই সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মোদীকে "কেবল বন্ধু নয়, ভাই" হিসেবে আখ্যা দেন।
ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে মোদী যুগের পরিবর্তন
১৯৪৮ সালে ভারত ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করেছিল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারত ফিলিস্তিনের অন্যতম নিকটতম সমর্থক ছিল এবং অ-আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিন মুক্তিসংস্থা (পিএলও)-কে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন ঘটে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদী সরকার ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের আনুষ্ঠানিক কথা বললেও, বাস্তবে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা বা নিন্দা করা থেকে বিরত থেকেছে। অন্যদিকে ভারত বর্তমানে ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার শীর্ষ দেশ এবং যুদ্ধের মধ্যেও ভারতে তৈরি সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মতাদর্শের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পরিবর্তন কেবল পররাষ্ট্রনীতির নমনীয়তা নয়, বরং বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানেরই প্রতিফলন।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী যৌথ সুর: ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই মোদী দ্রুত নিন্দা জানান এবং পরবর্তীকালে এটিকে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মুম্বাই হামলার মতো প্রেক্ষাপটের সাথে তুলনা করে ব্যাখ্যা করেন।
আদর্শগত মিল: হিন্দুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের 'জায়নিজম' এবং তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর কাঠামোর প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখা যায়। বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে, ভারতে উগ্র ইসলামভীতি ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব ইসরায়েলের নীতি সমর্থন করতে মোদী সরকারকে নীতিগত জায়গা করে দেয়।
সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, অতীতে যা গোপনীয় বা পর্দার আড়ালে ছিল, মোদী আমলে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক এখন একেবারে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বৈশ্বিক মেরুকরণের মাঝে ভারত এখন পুরোপুরি ইসরায়েলি বলয়ের কাছাকাছি অবস্থান নিচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন