প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমির খানের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘গজনি’-র নির্মম ও ভীতিপ্রদ খলনায়ক হিসেবে কোটি দর্শকের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা প্রবীণ ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৬টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৪ বছর।
ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে তিনি প্রায় সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অনন্য অভিনয়ক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
পর্দায় খলনায়ক বা কঠোর চরিত্রে দর্শকের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টির কারণে প্রদীপ রাওয়াত অভিনয়ের জগতে বেশ পরিচিত। তবে অভিনয় তার প্রথম পেশা ছিলনা। গ্ল্যামার জগতে প্রবেশ করার পূর্বে তিনি ব্যাংকে একজন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের নিরাপদ ও বাঁধাধরা চাকরি ছেড়ে কেবল অভিনয়ের প্রতি অপার ভালোবাসা থেকেই তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চিত জগতে পা বাড়ান।
পরে বি আর চোপড়ার বিখ্যাত পৌরাণিক ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ দ্রোণপুত্র ‘অশ্বত্থামা’ চরিত্রে অভিনয় করে তার রুপালি জগতের অভিষেক ঘটে। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সম্প্রচারিত এই কালজয়ী ধারাবাহিকটি প্রদীপ রাওয়াতকে ভারতের ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
মহাভারতের সাফল্যের পর প্রদীপ রাওয়াত আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ধীরে ধীরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক আসে ২০০৫ সালে তামিল চলচ্চিত্র ‘গজনি’-র মাধ্যমে, যেখানে তিনি প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
এই চরিত্রটি এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে, ২০০৮ সালে তৈরি একই নামের হিন্দি রিমেকেও তার অভিনয় উঠে আসে, যেখানে তিনি আমির খানের বিপরীতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। এর আগে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক সিনেমা ‘লাগান’-এও তিনি আমির খানের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেন।
প্রদীপের ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এস এস রাজামৌলি পরিচালিত ২০০৪ সালের সিনেমা ‘সাই’। এই সিনেমাটির মাধ্যমে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার শক্তিশালী অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি শুধু হিন্দিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং খলনায়ক হিসেবে তেলেগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম চলচ্চিত্রে নিজেকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘সরফরোশ’, ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’, ‘স্ট্যালিন’, ‘বীরম’, ‘১: নেনোক্কাদিনে’, ‘লৌকিয়াম’, ‘নেনু শৈলজা’, ‘সাররাইনডু’, ‘নেনে রাজু নেনে মন্ত্রী’, ‘আয়ি রাথিল ইরুভার’, ‘মার্কেট রাজা এমবিবিএস’ এবং ‘মিস ম্যাচ’-এর মতো একাধিক বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেন।
ক্যানসার আক্রান্ত প্রদীপ রাওয়াতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ দিন আগে তাকে ভিওয়ান্দির একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী।
মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী ও এক ছেলেকে রেখে গেছেন। ব্যাংকের চার দেয়াল থেকে শুরু করে রুপালি পর্দার অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক হয়ে ওঠার এই বর্ণিল যাত্রার সমাপ্তিতে পুরো ভারতীয় বিনোদন জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন