প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দুটি প্রবেশপথের মাঝখানে সড়কের পাশে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এসব বর্জ্য দিন দিন জমতে থাকায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়। এর ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের জন্য এটি একটি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসস্থলের নিকটবর্তী এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক চলাচল ও বসবাসের পরিবেশকে ব্যাহত করছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ওই সড়ক এড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে ওই স্থানে আবারও ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠতে না পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন হোটেলের মালিকেরা ড্রামে করে ময়লা-আবর্জনা এনে রাতের আঁধারে ওই স্থানে ফেলে যাচ্ছেন। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসে কর্মরত অনেকে বালতিতে করে গৃহস্থালি বর্জ্য সেখানে ফেলছেন। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য জমতে থাকায় ভাগাড়টি ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং আশপাশের মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এটি আমাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধের কারণে পাশ দিয়ে যেতে পারি না। ফলে বাধ্য হয়ে গেটের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকিতে ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু এটি পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়, তাই পরিবেশ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। যত দ্রুত সম্ভব ওই স্থানে যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করব। যেহেতু স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, তাই সেখানে সরাসরি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্থানটি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন