প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ককরোচ পার্টি ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহার করেছে এফআইআর প্রত্যাহারের আশ্বাসে।
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্র বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বিরাজমান। এর মধ্যেই ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে নির্ধারিত প্রতিবাদ মিছিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
গত জুলাই মাসের আন্দোলনের ফলস্বরূপ ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কোনো মামলার অগ্রগতি হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের পর সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে গত ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দেশের সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা খারিজ বলে গণ্য হবে এবং ভবিষ্যতে এই আন্দোলনের সূত্র ধরে নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
কেন্দ্র সরকারের আইন কর্মকর্তা তুষার মেহতা আদালতকে জানান, গত ২৫ জুলাই সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই দিল্লি পুলিশসহ বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্র সরকার এই মামলাগুলো খারিজ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
তুষার মেহতা দিল্লি পুলিশের আবেদনের বিভিন্ন বিষয়ও আদালতকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি ২ হাজার ৮৭৩ জন ব্যক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। ওই ‘দুষ্কৃতদের’ বিরুদ্ধে নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের করা হবে।
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মেহতা বলেন, ‘সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কিভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’
এরপর সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস আদালতে সিজেপির বিবৃতি পড়ে শোনান এবং ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সিজেপির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, দু’পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা থাকলে একের পর এক সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। খোলা মনে আলোচনা করলে পৃথিবীতে এমন কোনো বিষয় নেই, যার সমাধান করা যায় না।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাজধানীতে আন্দোলনের পর থেকেই ছাত্রসমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সিজেপি অভিযোগ তুলেছিল, সরকার মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কথা দিলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অনীহা দেখাচ্ছে এবং লিখিত কোনো আশ্বাস দিচ্ছে না। ফলস্বরূপ, পুলিশি পদক্ষেপের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নিট পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মার্চের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু আদালতের এই হস্তক্ষেপে সেই আন্দোলনের আবহ মুহূর্তে বদলে গেল।
সৌরভ দাস সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রের ইতিবাচক মনোভাব এবং আদালতের এই বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিলের ডাক তাঁরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
আদালতের এই রায় দেশজুড়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বড় আইনি স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন