প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ১০৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রামের জাদিদ অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কাস্টমস। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে জাদিদ অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তৈরি পোশাক রফতানির শর্তে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি করে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে জাদিদ অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির আমদানি, রফতানি এবং উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করে চট্টগ্রাম কাস্টমস অ্যান্ড বন্ড কমিশনারেট।
পরে, গত মার্চে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় বন্ড গুদাম থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ১০৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তাদের বন্ড লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
জাদিদ অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১০ মিনিট সময় চান। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানোর পরেও তার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নিট পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীর পরিচয়ে কিছু দুর্বৃত্তের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"
রাজস্ব সুরক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, "এ ধরনের ঘটনা একা করা সম্ভব নয়। এখানে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তারও যোগসাজশ থাকতে পারে। তাই শুধু শাস্তি নয়, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধের দিকেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেটাই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।"
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফাঁকি দেয়া অর্থের দ্বিগুণ জরিমানা, বন্ড লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন