প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাকি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো ভাউচার এখনো জমা পড়েনি।
ফলে উত্তোলন করা অর্থের প্রায় ৭৭ শতাংশের হিসাব এখনও মেলেনি। রাকসুর তহবিলের অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণীসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
নথি থেকে জানা যায়, জিএস আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি।
নথিতে দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ১৩ এপ্রিল রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এই তিন ধাপে উত্তোলন করা মোট ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা হয়নি। বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের সময় সেটি তাদের প্রথম দিকের বাজেট ছিল। তখন ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যোগ করার বিষয়টি জানা ছিল না। ফলে ৩ লাখ টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’
রাকসু সদস্যদের জন্য নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই অর্থের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব না আসায় সেটি জমা দেওয়া হয়নি। আরেকটি অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।’
রাকসু তহবিলের ব্যয়ের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য অর্থ উত্তোলনের পর বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে জিএসের নামে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার এখনও জমা না পড়ায় ওই অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। আমরা তাদের সঠিক নিয়মে জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’
রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘যেকোনো কর্মসূচি আয়োজন শেষে বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর প্রতিটি অধিবেশনে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য কোষাধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো কেন সবগুলো ভাউচার জমা পড়েনি, সেটি আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে এবং রাকসুকেও এই প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।’
এছাড়াও, রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনও জমা পড়েনি। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থের হিসাব বাকি রয়েছে জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা অর্থের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন