ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের


আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতটির পাশাপাশি এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসা বা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থনকারী ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আইসিসির সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ চিন্তিত যে, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালতের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এটি এখনও শুধুমাত্র আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে; আদালত বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অগাস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর ও একজন কর্মী রয়েছেন। আদালত এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এগুলো আদালতের স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির খবরের মধ্যে আইসিসি মার্কিন চাপের সম্ভাব্য প্রভাব কমানোর জন্য নিজেদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতটি ১ অক্টোবর থেকে ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

আইসিসি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস, রয়টার্স

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রী শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও আধুনিক অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে তার খুলি পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক বিশ্লেষণ আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক বিশ্লেষণ আসছে

জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে উত্থাপিত হয়েছে। এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনার দাবি রাখে।

এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এরপর নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে।

মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার এই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি নতুন করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না।

মার্ক আরও জানান, প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি। গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগেই এ কাজ করেছেন।

ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং যে কাপড় বা ফাঁসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করা।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেগুলোতে চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা না করা কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে এখনই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি ফ্রিম্যান। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা, নয়তো হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনার একটিই সত্য হতে পারে। তার আসন্ন বক্তব্যে দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার একজন অধ্যাপক এবং একটি আন্তর্জাতিক ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মেরিল্যান্ডের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।

২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু ঘটে। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।

তবে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের নিয়েও বিশ্বজুড়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে পাস হওয়া ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিপুলসংখ্যক তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর এক মাসেরও কম সময় আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলার অংশ হিসেবে চিঠিটি আদালতে জমা দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।

এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরদিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর তিনি ওই চিঠিটি পান এবং পরে তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেন।

হাতে লেখা ওই চিঠিতে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছিলেন—তাকে এক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি এবং ১৫ বছর আগের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘বিদায় বলার সময়’ এবং ‘কোনো আনন্দ নেই—মূল্য নেই’—এ ধরনের কথাও লেখা ছিল।

এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর এখন সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোই আবার আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য বাড়াতে প্যারিসে ব্যবসায়ীদের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য বাড়াতে প্যারিসে ব্যবসায়ীদের বৈঠক

বাংলাদেশি পণ্যের ইউরোপের বাজারে প্রবেশ ও সম্প্রসারণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ফ্রান্সের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সদর দপ্তরে ফ্রান্স সফররত এফবিসিসিআইয়ের উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করা, সম্ভাব্য অংশীদারত্ব তৈরি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বৃদ্ধি করার ওপর অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও ইউরোপের শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য ফরাসি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিসর বৃদ্ধি করে ইউরোপের বাজারে নতুন নতুন পণ্যের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সহসভাপতি ফখরুল আকম সেলিম মন্তব্য করেন, ইউরোপে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সরাসরি সমন্বয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ধরনের বৈঠক দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. আলমগীর ইউরোপের বিভিন্ন ব্যবসায়িক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরিতে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিরেক্টর জাঁনা মার্টিন, মাহারুল ইসলাম মিন্টু, খন্দকার রূহুল আমিন, লুবনা ইয়াছমিন শম্পা, ফারহানা আফরোজ পলি, মো. কামরুজ্জামান, তাপস বড়ুয়া রিপন ও খান নূরে আলম সিদ্দিকীসহ এফবিসিসিআই ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেন, প্যারিসের এ বৈঠকের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরো বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির পথও আরো সুগম হবে।

বৈঠক শেষে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সৌজন্যে আয়োজিত বিশেষ গালা ডিনারে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%