০৯:২৮ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতটির পাশাপাশি এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসা বা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থনকারী ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আইসিসির সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ চিন্তিত যে, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালতের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এটি এখনও শুধুমাত্র আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে; আদালত বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অগাস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর ও একজন কর্মী রয়েছেন। আদালত এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এগুলো আদালতের স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির খবরের মধ্যে আইসিসি মার্কিন চাপের সম্ভাব্য প্রভাব কমানোর জন্য নিজেদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতটি ১ অক্টোবর থেকে ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
আইসিসি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস, রয়টার্স
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন