প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে ভূমধ্যসাগর। এর ফলে সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবনচক্র ও বংশবিস্তারে প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কচ্ছপের ডিম থেকে জন্ম নেওয়া শাবকদের মধ্যে স্ত্রী কচ্ছপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকে, তবে ভবিষ্যতে প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় পুরুষ কচ্ছপের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রতীক হিসেবে লগারহেড প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে এই কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাপমাত্রা বাড়লে বাড়ে স্ত্রী শাবক
সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম থেকে জন্ম নেওয়া শাবকের লিঙ্গ নির্ধারণে বালুর তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত, বালুর তাপমাত্রা বেশি হলে স্ত্রী শাবকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তুরস্কের ইজতুজু সৈকতে গত ২০ বছরে কচ্ছপের বাসার তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক কচ্ছপবিষয়ক গবেষক ইয়াকুপ কাসকা।
পামুক্কালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় গবেষক আয়ফের সিরিন দেখেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে কচ্ছপের বাসা বাঁধার সময় এগিয়ে আসা, ডিম ফোটার সময় কমে যাওয়া এবং স্ত্রী শাবকের আধিক্যের সম্পর্ক রয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ লগারহেড কচ্ছপের শাবক স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গবেষকদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে একসময় পুরুষ কচ্ছপের সংখ্যা প্রজননের জন্য অপর্যাপ্ত হয়ে পড়তে পারে। আবার, বাসার তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে ভ্রূণের মৃত্যুঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্লাস্টিক ও মাছ ধরার জালেও বিপদ
জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সামুদ্রিক কচ্ছপের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে মাছ ধরার জাল, নৌযানের পাখার আঘাত এবং প্লাস্টিক বর্জ্য। মাছ ধরার জালে আটকে গেলে কচ্ছপ পানির ওপরে উঠে শ্বাস নিতে পারে না, ফলে ডুবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তুরস্কের ইজতুজু সৈকতের কাছে ডেকামার পুনর্বাসনকেন্দ্রে আহত কচ্ছপের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটিতে আসা কচ্ছপের প্রায় ৬০ শতাংশের পরিপাকতন্ত্রে অন্তত পাঁচটি প্লাস্টিকের টুকরা পাওয়া গেছে, বলে জানিয়েছেন গবেষক কাসকা।
সুরক্ষায় প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
সামুদ্রিক কচ্ছপ এক দেশে ডিম পাড়লেও খাবারের সন্ধানে অন্য দেশের জলসীমায় চলে যেতে পারে। তাই তাদের রক্ষায় একাধিক দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কচ্ছপের জীবনচক্রে পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি প্রাণীর জন্য হুমকি নয়; এটি সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশের পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমানো, মাছ ধরার জালে কচ্ছপ আটকে পড়া রোধ এবং প্রজননস্থল সংরক্ষণ জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন