প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। বিশেষভাবে নারী এবং প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বাইরে থাকা পরিবারগুলো এই ঋণের সুবিধা গ্রহণ করবে।
এডিবির এই অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর আওতাধীন যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হবে, যা পরিবারগুলোকে নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর মেরামত ও উন্নয়ন করতে সহায়তা করবে।
আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং আবাসন ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ মোকাবিলায় এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো প্রচলিত আবাসন ঋণব্যবস্থার বাইরে থাকায় তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, "আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।" তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তার মাধ্যমে এ প্রকল্প দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে এবং আবাসনের অধিকার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণগ্রহীতাদের স্বামী-স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ঘর নির্মাণের নকশা, নির্মাণ প্রক্রিয়া ও দুর্যোগের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
এডিবি জানাচ্ছে, প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়নব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগের ঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটাল প্রতিবেদনব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
১০ কোটি ডলারের এই ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান প্রদান করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন