০৬:০৩ পি.এম
বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী সেচসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সৌরবিদ্যুৎ ও স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে, বিএমডিএর আওতাধীন প্রায় ১৭ হাজার সেচযন্ত্রে সৌর প্যানেল স্থাপন, জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্যাশলেস রিচার্জ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন।
শনিবার, বিএমডিএর রাজশাহী সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়ে, নেট মিটারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে সেচের অর্থ পরিশোধ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্র পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২)। এসময় উপস্থিত ছিলেন চীনের উইলফার ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি ঝাং ঝেনহুয়া ও উইলিয়াম লু এবং ঝেজিয়াং কিবিন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লু চুনহংয়ের প্রতিনিধিরা। তাঁরা নেট মিটারিং ও স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া সানাকোশ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের (এসএএল) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শহীদ উল্লাহ, পরিচালক (বিজনেস) আব্দুল্লাহ আল নাফীজ এবং মহাব্যবস্থাপক মো. তুরজাউল হকও উপস্থিত ছিলেন।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান মন্তব্য করেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, "নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকেরা কতটা উপকৃত হবেন, তাঁদের সেচ খরচ কমবে কি না এবং প্রয়োজনের সময় সহজে সেচসেবা পাবেন কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত না করে কোনো প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা বিএমডিএর উদ্দেশ্য নয়। বিএমডিএর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ড. এম. আসাদুজ্জামানের সময় থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় সোলার প্যানেল স্থাপন করে কিছু ডিপ টিউবয়েল পরিচালনা করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন আরও পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর সেই দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের সামনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সেচ পাম্পগুলোকে যতদ্রুত সম্ভব সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও যোগাযোগ করে তাদের প্রযুক্তি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু প্রযুক্তি দেখেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। দেখতে হবে, কোন প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি বিএমডিএর জন্য কার্যকর হবে এবং সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন আমাদের কৃষকেরা।"
ক্যাশলেস সেচব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকেরা যেন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেচের টাকা রিচার্জ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে এবং সেচসেবা গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে, তিনি জানান, "আমরা এখন ক্যাশলেস সেচব্যবস্থার দিকে একবারে না এগিয়ে ২ থেকে ৩টি গভীর নলকূপে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ এবং ক্যাশলেস সেচব্যবস্থা প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।" পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল, প্রযুক্তির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং কৃষকদের সুবিধা যাচাই করে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাগত জানাতে রাবি ছাত্রদলের মিছিল
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফাজ্জল আলী সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী এ,এস.এম দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মতিউর রহমান, মনিটরিং অফিসার মোঃ আশরাফুল ইসলাম প্রকৌশলীগণসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং ও স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিএমডিএ ধাপে ধাপে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। তাঁদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিএমডিএর পরিচালন ব্যয় কমবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে এবং কৃষকেরা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও আধুনিক সেচসেবা পাবেন। বিএমডিএ সকল পরিকল্পনা কৃষক এবং কৃষকের উপকার নিশ্চিত করেই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়।
মতবিনিময় সভায় বিএমডিএর আওতাধীন প্রায় ১৭ হাজার সেচযন্ত্রে সৌরপ্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, কৃষকদের সেচসেবা গ্রহণ আরও সহজ, ক্যাশলেস রিচার্জ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব, স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তি মাধ্যমে বিএমডিএর সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ব্যবহার, রিচার্জ ও আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: লোহাগড়ায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুদান দিলেন শ্রমিকদল নেতা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন