প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপি নেতা ওমর মোহাম্মদ অপুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করার দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা মামলাটিকে 'মিথ্যা ও সাজানো' হিসেবে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তিন আসামি হলেন—ভৈরব পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু, ফারুক মিয়া এবং কৃষক দলের নেতা ইমরান মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ভৈরব বাজারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা মাদক নির্মূল প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলামের ডাকবাংলোতে এই প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা দাবি করেছেন, ওমর মোহাম্মদ অপু মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তারা মামলাটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ভৈরব উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল বাকের ঝলক, উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাউছার আহমেদ, হাজী আসমত ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হান্নান আহমেদ হিমু এবং যুবদল নেতা সোহেলুর রহমানসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা।
মামলায় যা বলা হয়েছে, নারী ও শিশু পিটিশন মামলা নং-৮৩/২০২৬-এর নথি অনুযায়ী, বাদী শিল্পী রহমান অভিযোগ করেছেন, গত ১০ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় পঞ্চবটি এলাকার বৌবাজার সংলগ্ন জগন্নাথপুর রোডে রেললাইনের পাশের রাস্তায় পৌঁছালে ওয়ামর মোহাম্মদ অপু, ফারুক মিয়া ও ইমরান মিয়া তার পথ রোধ করেন। বাদীর অভিযোগ, একপর্যায়ে আসামিরা কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন করেন। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান, বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার সময় কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে ভৈরব থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ পিটিশন মামলা করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে 'মিথ্যা ও সাজানো' বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
বাদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেশনার সভায় কয়েকজন বক্তা মামলার বাদী শিল্পী রহমানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, ভৈরব ও গাজীপুরে তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে বাদীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা এবং সম্পদের বিষয়ে সভায় উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এরই সাথে এসব অভিযোগ নিয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। মামলা সংক্রান্ত কিশোরীকে হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ এবং মামলার আসামিপক্ষের 'সাজানো মামলা' দাবি—দুটিরই স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি। প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন। পাশাপাশি তারা আশা করেন, নারী ও শিশুর অভিযোগগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন