প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি দায়িত্বশীল অর্থনীতি কেবল ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যায় না। ঋণ কতটা পরিশোধিত হয়েছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর কতটা দায়িত্ব বর্তানো হচ্ছে, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গুরুত্বের প্রেক্ষিতে সরকার ঋণ গ্রহণের চেয়ে ঋণ পরিশোধে অধিক গুরুত্ব প্রদান করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার নতুন বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে। অপরদিকে, পূর্বে নেওয়া ঋণের সুদ ও মূলধন বাবদ ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। এর মানে হল, নতুন ঋণের তুলনায় ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সহজভাবে বললে, নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমছে এবং পুরনো ঋণ পরিশোধে জোর দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওবার্তায় উল্লেখ করা হয়, এটি শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধের একটি হিসাব নয়; বরং এই তথ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে না, বরং পূর্বের দায়ও নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছে। জুলাই মাসে এডিবি, আইডিএ ও জাপান থেকে অর্থছাড় হয়েছে। একই সময়ে কিছু উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অর্থছাড় না এলেও পুরনো ঋণের দায় পরিশোধ অব্যাহত ছিল।
ভিডিওবার্তায় আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরের অগণতান্ত্রিক অবৈধ সরকারের সময়ে দ্রুত উন্নয়ন ও সাময়িক স্বস্তির নামে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প, উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ চুক্তি এবং ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্পের ফলে যে অনিয়ম, অপচয় ও অর্থনৈতিক বোঝা চাপানো হয়েছে, তার একটি বড় অংশ এখনও দেশের জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।
সেসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকারকে এখন সেই বোঝা কাঁধে নিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে। সরকার তাই কেবল নতুন ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে না, বরং পুরনো ঋণের দায় পরিশোধের পাশাপাশি অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা, রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনের সময়ে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে কিছু সাময়িক চাপ ও অসুবিধা তৈরি হচ্ছে বলেও ভিডিওবার্তায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাময়িক স্বস্তির জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঘাড়ে নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে রেমিটেন্স, গার্মেন্টস ও রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পুরনো দায় পরিশোধ হচ্ছে। অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপি সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। আজ বহু মানুষ, বহু শিল্পকলকারখানার মালিকসহ সাধারণ বহু মানুষ বিদ্যুতের কষ্টে বা জ্বালানি কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।
ভিডিওবার্তায় আরও বলা হয়, স্বাভাবিকভাবেই এই কাজগুলো এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। কারণ এবার শুধুমাত্র দেশের মানুষকে লোক দেখানো উন্নয়ন ও সাময়িক স্বস্তি দেওয়াই লক্ষ্য নয়। বরং এবারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে আজকের বাংলাদেশ এবং আগামী প্রজন্ম ঋণের বোঝায় নত হয়ে নয়, নিজেদের অর্থনীতি, অধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। আর সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন