০৫:০৫ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই সংকটের প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল, গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্যাকেজে যারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান, তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত '২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা' শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকার পরও যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে কেবল কাগজে ঋণ দেখিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। অর্থমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ব্যাংকগুলোর ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা করা প্যাকেজটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যদি যোগ্য হওয়ার পরও কোনো ব্যাংক ঋণ দিতে বাধা প্রদান করে, তবে সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি স্বীকার করেন যে অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল। অর্থমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা হতাশাজনক ছিল। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুদও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে। সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু, সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ধীরে ধীরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি আরও জানান, এবার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না। আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগও দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হবে। এরপর তিনি বলেন, আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন