প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা করেছে। তাকে ধরার জন্য তথ্য প্রদান করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে ইসলামাবাদের এই ঘোষণাকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে আর লোক-দেখানো ঘোষণা দিতে হবে না, বরং ‘বাস্তব এবং কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে হবে। দ্য প্রিন্টের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) অক্টোবরের বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তান এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান যেন এফএটিএফের গ্রে লিস্টে আবার না পড়ে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের এ ধরনের নাটক এবং জনগণকে বোকা বানানোর প্রচেষ্টা নতুন নয়। তিনি বলেন, অতীতে আমরা একই ধরনের নাটক দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, যখন একটি রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তখন এই ধরনের ভুয়ো ঘোষণার প্রকৃত গুরুত্ব কতটা ফাঁপা, তা সকলেই জানে। পাকিস্তানকে লোক-দেখানো ঘোষণা না দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ঘোষণার কোনও গুরুত্ব নেই।
মাসুদ আজহার ভারতের কাছে একটি পরিচিত নাম। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ— এসব ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িত। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান তাকে আশ্রয় দিয়েছে। ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) ‘রেড বুকেও’ মাসুদ আজহার এখনও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মাসুদ পাকিস্তানে নেই এবং জইশ প্রধান আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সংগঠন পরিচালনা করছেন। তবে এই দাবির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের সঙ্গে তালেবান সরকারের প্রকাশ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই। ফলে পাকিস্তানের পুরনো দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে মাসুদের সন্ধান দিতে নতুন করে পুরস্কার ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক মহলেও ইসলামাবাদের দিকে নজর পড়েছে। কারণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সামনে রয়েছে ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পরবর্তী পর্যালোচনা। জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ রুখতে পাকিস্তান কতটা পদক্ষেপ করেছে, তা খতিয়ে দেখবে আন্তর্জাতিক এই নজরদারি সংস্থা।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের ‘গ্রে লিস্ট’-এ ছিল। অর্থপাচার রোধে দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করতে ব্যর্থতার অভিযোগ ছিল মূলত। বিশেষ করে জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন