প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ১৪ দলের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করতে বলছিলেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম উঁচু গলায় আপত্তি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, "এভাবে বললে তো হবে না।"
এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম পাশ থেকে বলেন, "সুলতানা মাহমুদ কোনো ভুল করেননি।" আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শী হানিফ মিয়া সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন।
হানিফ মিয়া সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জানান, জুলাই মাসে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, "এসব অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী।" কারণ তিনি টিভিতে এই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শুনেছিলেন।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তখন বলেন, "আপনি ১৪ দলের নেতাদের কথা বলছেন, তাদের নাম বলেন।" এ সময় আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের গ্লাসের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরকে জোর করে নাম বলার অভিযোগ তোলেন।
সুলতান মাহমুদ কামরুল ইসলামকে বলেন, "আপনি এভাবে সাউট করেন কেন? আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।" প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল করেননি।" প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায়, তিনি নাম বলতে বলেছেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, "It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।" মিজানুল ইসলাম তখন বলেন, "এটা লিডিং প্রশ্ন না।"
পরে সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করলেন, ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ কারা? এ প্রশ্নকে অবৈধ উল্লেখ করে আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার করে আপত্তি জানান। তিনি বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। আদালত শান্তভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, "প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য একটাই, আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা।" পরবর্তীতে জানলাম, কামরুল ইসলাম রক্ষীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছেন। মাঝে মাঝে এমন করেন, কেন করেন, আল্লাহই ভালো জানেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন