জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৫:০১ পি.এম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের তোরাই মোড় এলাকায় ভয়াবহ ছুরিকাঘাতে গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, যিনি হীরার নামেও পরিচিত, মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বয়স ৪০ বছর। এই ঘটনার অগ্রগতি শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঘটেছিল।
নিহত শরিফুল গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ ভূঁইয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম ও কামরুল দুটি বন্ধুত্বের সম্পর্কিত ব্যক্তি ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে অর্থের লেনদেন নিয়ে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। শনিবার সকালে, যখন শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ বাজার থেকে সশেষ বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন, তৎক্ষণাৎ তোরাই মোড় এলাকায় কামরুল তাকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে।
স্থানীয়রা দ্রুত শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, "সকাল বেলা ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আমরা আসামিদের গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের খুলশী থানার ডাকাতি মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জসিম প্রকাশ সিলেটি জসিমকে (৩৯) ময়মনসিংহ গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার (৮ আগস্ট) র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার গ্যাসলাইন এলাকায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের আভিযানিক দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মো. জসিম চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাহীন মনসুরাবাদ এলাকার সরাফত আলীর ছেলে।
র্যাব জানায়, জসিম মহানগরীর খুলশী থানার ডাকাতি মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি কলাপাড়া শাখার সম্পাদক কমরেড নাসির তালুকদারের সভাপতিত্বে, এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ক্ষেত মজুর সমিতি কলাপাড়া উপজেলা শাখার আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম, প্রগতি পাঠাগারের আহবায়ক ও শিক্ষক আতাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কলাপাড়া শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নয়নাভিরাম গাইন নয়ন, ব্যবসায়ী মো. নিজাম উদ্দিন সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে এলাকার মানুষ পৈত্রিক ভিটেবাড়ী দিয়েছে এবং এর ক্ষতি পূরণ তারা শতভাগ পায়নি। এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিদিন ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুত বিভ্রাট মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। বক্তারা এছাড়াও উল্লেখ করেন যে, অযৌক্তিকভাবে ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া নেওয়া বন্ধ করতে হবে, নতুবা তারা আন্দোলন করতে বাধ্য হবেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ বাতিলের দাবীতে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পৌরশহরের মনোহরীপট্রিতে নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বন্যায় কৃষকের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে।
সরকারি প্রণোদনা ও কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা প্রস্তুত হওয়ায় আমন আবাদে গতি ফিরেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ২৪৯ হেক্টর। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়া চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়া ইউনিয়নে আমনের চারা রোপণ চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা প্রস্তুতে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে কৃষকরা আবার আমন আবাদে ফিরতে পেরেছেন।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, এবার ব্রি ধান-২২, ব্রি ধান-২৩, ব্রি ধান-৫২ ও ব্রি ধান-৫৭ ছাড়াও সিনজেনটার বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আগস্টজুড়ে রোপণ কার্যক্রম চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে রোপণ শেষ হবে। নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধান কাটা শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তবে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
তিন কানি বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, গতবছর প্রতিকানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল তিন হাজার টাকা। এবারে তা বেড়ে গিয়ে হয়েছে চার হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। প্রতিকানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও তাঁর মতে, ৬০ আড়ির বেশি পাওয়া কঠিন।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি বর্গা জমিতে সাদা পানজা (ব্রি ধান-২৮) ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, প্রতিকানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। তবে চাষ করে লাভ হচ্ছে না, বরং ক্ষতি হচ্ছে। তবুও অন্য কাজ জানা না থাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
এদিকে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, জৈষ্ঠ্যপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রবও কৃষকদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
কৃষক বাবুল বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তিনটি বন্যহাতি সন্ধ্যার পর আমুচিয়া রাবার বাগান এলাকা থেকে লোকালয়ে নেমে আসে। পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। হাতির পাল বীজতলা ও রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করছে। এতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীবাসী যাতে আর বন্যার কবলে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মন্ত্রী শনিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতিবছর বাঁশখালীবাসী যাতে আর বন্যা মোকাবিলা করতে না হয়, সেই জন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এ অঞ্চলের খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব বিলোপের পথে রয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেই দুকূল পার হয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করা হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নেমে যেতে পারে। পাহাড়ের ঢল যাতে মানুষের বসতবাড়িতে না ঢুকে, সেই জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।
রবিবার, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ এবং ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম সফর করবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বাঁশখালীতে আসেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি উপজেলার বাহারছড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, অ্যাডভোকেট শওকত ওসমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ