প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চারদিকে কাদা, পাথর এবং প্রবল স্রোতের তাণ্ডব চলছে। মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। ভয়াবহ বন্যার এই পরিস্থিতিতে, স্রোতে ভেসে গেলেও একটি আমগাছের ডাল আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে গেছেন ২৪ বছর বয়সী নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল।
বুধবার সকালে, তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন বিদেউর এলাকায় একটি নতুন বাড়ির শৌচাগারের গর্ত খোঁড়ার কাজ করছিলেন বিবেক। হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে ওপরে থাকা সহকর্মীরা তাকে দ্রুত গর্ত থেকে উঠে পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তিনি বের হওয়ার আগেই কাদা ও পানির প্রচণ্ড স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
স্রোতের তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় ভাগ্যক্রমে একটি আমগাছের শক্ত ডাল ধরে ফেলেন বিবেক। পরে বেঁচে ফেরা বিবেক কুমাল জানান, "আমগাছটি আঁকড়ে ধরে না থাকলে আমি হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারতাম না।"
গাছের ওপর আটকে থাকা অবস্থায়, তিনি নিজের চোখের সামনে কর্মস্থলটি পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন হতে দেখেন। এ সময় কাদা ও পাথরের আঘাতে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
বর্তমানে, বিবেকের মতো বন্যায় আক্রান্ত অনেকেই কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পাশের শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে ১১ বছর বয়সী রিহানা লামিছানে। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতে পড়ে আহত হয় সে।
সহপাঠীদের কী হয়েছে, তা এখনো জানতে পারেনি রিহানা। তবে প্রাণে বেঁচে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারায় সে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শতাধিক আক্রান্ত মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র : রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন