১০:৪৯ পি.এম
এশিয়ান গেমসে উশুতে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী নেত্রকোনার মেয়ে জিন্নাত আক্তার মন্তব্য করেছেন, "আমাদের সময়ে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা তেমন ছিল না।" তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য যদি কিছুটা অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ প্রদান করা হয়, তাহলে নেত্রকোনার মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য বড় সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে জিন্নাতের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
আরও পড়ুন: তদন্তের মধ্যে থাকা রিজওয়ানকে ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি
জিন্নাত আক্তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কৃতী উশু অ্যাথলেট। তিনি জাপানে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা। নির্ধারিত ওজনসীমা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার সেই প্রতিযোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত করেন সাতবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জিন্নাত।
জিন্নাত আক্তার নেত্রকোনা পৌর শহরের খতিবনগুয়া এলাকার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তার বাবা প্রয়াত আরজ আলী এবং মা রওশনা আক্তার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিন্নাতের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে তার পরিবার এবং পুরো জেলাবাসী আনন্দ ও গর্বে ভাসছে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. হেদায়েত উল্লাহ রুমিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন রিপন, জেলা উশু প্রশিক্ষক নাদিম আহম্মেদ, স্থানীয় উশু খেলোয়াড়রা এবং জিন্নাতের মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
আরও পড়ুন: কুয়েতে কেপিএল টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব
এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমস থেকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে দেশে ফেরেন জিন্নাত। তখন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও উশু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জিন্নাতের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন