প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় সোমবার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
পূর্বাভাসদাতারা জানিয়েছেন, এল নিনোর কারণে আগামী কয়েক মাসে এই অঞ্চলে তীব্র ও ধ্বংসাত্মক ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত জোয়ারের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মন্তব্য করেছেন, "সমস্যা দেখা দেওয়ার পর অপেক্ষা না করে আগেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়ানো, জরুরি সেবাদানকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং রাজ্য যে প্রস্তুত, সে বিষয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করা।"
নিউজম উল্লেখ করেছেন, "আমরা এবার এল নিনোর জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, প্রত্যেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর নিজের ঘরে নিরাপদ থাকা, নিজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সুরক্ষা নিশ্চিত করার অধিকার রয়েছে।"
এই ঘোষণা মূলত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসেছে। এর ফলে রাজ্য সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সহজ হবে। বন্যা মোকাবিলার জন্য বালুর বস্তা ও পানিনিষ্কাশন পাম্পের মতো সরঞ্জামও আগেভাগে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে বন্যা মোকাবিলা, উদ্ধার ও অনুসন্ধান, প্রকৌশল এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কাজে সহায়তার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এল নিনো হল ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত একটি চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এই চক্রটি ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ বা ‘ইএনএসও’ নামে পরিচিত। এটি প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে।
পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হলে এল নিনো শুরু হয়। তখন সাধারণত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জমে থাকা উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে সরে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে আসে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ তাপমাত্রা কয়েক মাস স্থায়ী হলে ওই অঞ্চলে ঝড় ও মেঘের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলে পরিবর্তন দেখা দেয়। কোথাও তাপমাত্রা বাড়ে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হয়। আবার কোথাও ঠান্ডা ও বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করে। ফলে এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হতে পারে। আবার কিছু এলাকায় এল নিনোর কারণে খরা দেখা দিলে মাটি আরও শুষ্ক হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এল নিনো রেকর্ডে এবারেরটি সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা ৭৫ শতাংশ। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এর তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এরই মধ্যে এটি বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া সৃষ্টি করছে।
একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী সোমবার এএফপিকে জানিয়েছেন, বহুল ব্যবহৃত একটি সূচকে এই এল নিনো ইতোমধ্যে রেকর্ডের সবচেয়ে তীব্র এল নিনোর সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
বার্কলে আর্থের জলবায়ুবিদ এবং জাতিসংঘের জন্য প্রণীত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিস্তৃত প্রতিবেদনগুলোর সহলেখক জেক হাউসফাদার বলেছেন, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা বর্তমানে ৩ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৫-২০১৬ সালের এল নিনোর সময়ও এই তাপমাত্রা ছিল একই মাত্রায়।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক ঝড় আঘাত হেনেছে, যার ফলে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
উপকূলীয় ভাঙনের কারণে সান্তা মনিকায় একটি সংগীত উৎসবও বাতিল করা হয়েছে। ওই উৎসবে কিলারস, অলিভিয়া ডিন ও জ্যাক হোয়াইটের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন