প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২৬ : হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার প্রক্রিয়া কিছু সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ক্লাবের অনুশীলনকেন্দ্রে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তার দ্বিতীয় অধ্যায়, যেখানে রয়েছে নস্টালজিয়া, ঝুঁকি এবং কিছু অসমাপ্ত কাজ।
গত ১০ জুলাই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে কাজ শুরু করা পর্তুগিজ কোচ ক্লাবের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও সম্মানসূচক সভাপতি হোসে মার্তিনেজ পিরির উপস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদের বোর্ডরুমে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বড় আয়োজনের জন্য পরিচিত এই ক্লাবের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানটির নীরবতাই যেন সবচেয়ে বড় বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদ এবার টানা দুই মৌসুম কোনও শিরোপা ছাড়াই নতুন লা লিগা মৌসুমে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি পুন:নির্বাচিত পেরেজও পূর্বের মতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে নেই। অধৈর্য সমর্থকদের কাছ থেকে তার ওপর চাপও ক্রমেই বাড়ছে। মরিনহো তার প্রত্যাবর্তনকে একটি চাকরি হিসেবে দেখছেন না।
ক্লাবের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলকে মরিনহো বলেন, “এটা ঘরে ফেরার মতো। আবেগের দিক থেকে এটা প্রথমবারের চেয়েও ভালো, কারণ সেবার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর অনুভূতি ছিল, আর এবার বিষয়টি আরও আবেগপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী।”
“আমি আপনাদেরই একজন, সবসময়ই ছিলাম। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কাজ করার অর্থ আমার কাছে কী, তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন। সবাইকে একটি মূলমন্ত্র অনুসরণ করতে হবে, রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কাজ করা, যার অর্থ আপনাদের জন্য কাজ করা।”
এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদকে কোচিং করেছিলেন। তার সেই দূরন্ত সময়ে ক্লাবটি লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল। তবে সেই সময়ের সঙ্গে ছিল নানা সংঘাত এবং ক্লাবের ওপর তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবও তৈরি হয়েছিল।
এখন বেনফিকা থেকে ফিরে আসা মরিনহো এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন পেরেজের তত্ত্বাবধানে রিয়াল সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম আগ্রাসী দলবদল সম্পন্ন করেছে। ইয়ান দিয়োমান্দে, মার্ক কুকুরেয়া, বার্নান্ডো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস ও কার্লোস এসপিকে দলে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উইঙ্গার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বহু বছরের চুক্তিও নবায়ন করা হয়েছে।
মরিনহোর মতো নতুন খেলোয়াড়দেরও আগামী কয়েক দিনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও সম্ভবত কোনো ধরনের বড় আনুষ্ঠানিকতা করবে না রিয়াল মাদ্রিদ।
শনিবার বার্সেলোনায় এস্পানিওলের বিপক্ষে লা লিগার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে নিজেদের কিছুটা আড়ালে রাখার পরিকল্পনা এই পদ্ধতির প্রতিফলন। মরিনহো জানান, তার লক্ষ্য ব্যক্তিগত গৌরব অর্জন নয়, বরং দলের মান পুনর্গঠন করা।
“শুধু কথা যথেষ্ট নয়... কারণ এটা একটি মিশনের মতো,” তিনি বলেন। “আমি এখানে সবাইকে আরও ভালো হতে সাহায্য করতে এসেছি- খেলোয়াড়, স্টাফ... কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, উচ্চাকাঙ্খা এবং এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে, যে বিষয়টি আমি ভালোভাবে জানি- রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কাজ করার দায়িত্ব ও সম্মান।”
একসময় ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ নামে পরিচিত মরিনহো ১১ বছর ধরে কোনো লিগ শিরোপা এবং চার বছর ধরে কোনো ট্রফি জিততে পারেননি। তাই এবার রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এসে প্রমাণ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে তার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন