প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে মেয়র জোহরান মামদানি বড় চমক দেখিয়েছেন। তিনি সমর্থিত তিন প্রার্থীই জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে দুটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যকে পরাজিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।
২৩ জুন, মঙ্গলবারের এই নির্বাচনের ফলকে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের ১৩তম আসনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থী ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাড্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করেন। ৭ম আসনে ক্লেয়ার ভালদেজ, বিদায়ী সংসদ সদস্য নায়দিয়া ভেলাসকেজের আসনে জয়ী হন। ১০ম আসনে মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডারও বর্তমান সংসদ সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে হারান।
জয়ের পর, মামদানি তিন প্রার্থীর সঙ্গে মিলিত হয়ে উদযাপনে অংশ নেন। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে নতুন ধরনের ভাবনা ও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।"
নিউইয়র্কের নির্বাচনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বেশিরভাগ প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতির সমালোচনা করেছেন। ব্র্যাড ল্যান্ডার মন্তব্য করেন, "ডেমোক্র্যাটদের এই বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।"
তবে কিছু জায়গায় বামপন্থী প্রার্থীদের জয় অধিকার করা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্কের ১২তম আসনে দলের প্রতিষ্ঠিত ধারার সমর্থিত প্রার্থী মাইকা ল্যাশার জয়ী হয়েছেন। উটাহর একটি আসনেও মধ্যপন্থী প্রার্থী এগিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পInitially পাম এভেটকে সমর্থন করেন, পরে দুই প্রার্থীকে সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত, অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয়ী হন।
এর আগে, ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন হারান। ফলে, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রভাব আগের মতো রয়েছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও নির্বাচনে বড় সাফল্য পাননি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিছু পরিচিত মুখ বিভিন্ন নির্বাচনে পিছিয়ে পড়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা যেমন নতুন নেতৃত্বের খোঁজ করছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী বাছাই করার জন্য যে নির্বাচন করে, সেটিই প্রাথমিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের ভোটাররা ঠিক করেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে তাদের দলের হয়ে কে প্রার্থী হবেন। এগুলো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (কংগ্রেস নির্বাচন) আগে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন