প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রেমের ফাঁদ, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট এবং একের পর এক বিয়ের প্রলোভনে মিলে গেছে একটি নারীর সাজানো সংসার, যার ফলে তার সোনা, টাকা এবং জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে গেছে।
আশুলিয়ার আড়াগাও চকলেট ফ্যাক্টরি এলাকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোসাম্মদ লাকি আক্তার তিন্নি (৩০) আজ পলাতক এই প্রতারকের কারণে তার জীবনকে নরকে পরিণত করায় এখন ভীষণ অসহায়। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী লাকি আক্তার তিন্নি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে আশুলিয়ার আড়াগাও এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয় তিন্নির। ২০২১ সাল পর্যন্ত, দীর্ঘ ১০ বছর তারা অত্যন্ত সুখী এবং শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করছিলেন।
কিন্তু ২০২১ সালের শুরুর দিকে তিন্নির জীবনে কালনাগিনী হিসেবে উপস্থিত হন স্থানীয় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সেলিম রেজা (৩৫)। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেলিম তিন্নির সরলতার সুযোগ নিয়ে একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার অকাট্য প্রলোভন দেখিয়ে শুকুর আলীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করেন।
১০ বছরের সাজানো সংসার ভেঙে তিন্নি চলে আসেন সেলিমের কাছে। এরপর তারা শুরু করেন লিভ টুগেদার। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিতে গেলে সেলিম তার ভোল বদলে ফেলতেন। দিনের পর দিন কালক্ষেপণ করার পর এক পর্যায়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি বিয়ে করবেন না! সুন্দর সংসার হারিয়ে প্রেমিকের লালসার সামগ্রীতে পরিণত হওয়া তিন্নি তখন লোকলজ্জা এবং অপমানে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরিবারের অনুরোধে সামাজিকতা রক্ষা এবং বেঁচে থাকার তাগিদে পরবর্তীতে তিন্নি মিরপুর-২ এর সৌদি প্রবাসী ফরহাদ হোসেনকে বিয়ে করেন। সেখানে তিন বছর তিনি সুখে কাটান। তার প্রবাসী স্বামী তাকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৩০ লাখ টাকা উপহার দেন। কিন্তু সেলিম এই সুখ সহ্য করতে পারেননি। অতীতের একান্ত মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন্নিকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন, বাধ্য করেন অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার জন্য। এক পর্যায়ে এসব যন্ত্রণার কথা স্বামী ফরহাদ জানতে পেরে, মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে সৌদি আরবেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ফরহাদ।
স্বামীকে হারিয়ে তিন্নি যখন পিত্রালয়ে (দোসাইদ কলেজ রোড) এসে শোকগ্রস্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন, তখন সেলিম তার কাছে থাকা ৩০ লাখ টাকা এবং ১০ ভরি সোনার ওপর চোখ রাখে। এবার সেলিম নিজের 'ভুল স্বীকার' করে নতুন করে ঘর বাঁধার নাটক সাজায়, বাড়ি নির্মাণের অজুহাতে তিন্নির কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং জোরপূর্বক বিক্রি করে দেয় আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার।
এমনকি গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতেও তিন্নির বাসায় এসে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এই প্রতারক।
টাকা এবং সোনা হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকেই সেলিম তিন্নিকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে, তিন্নি অবরোধের মধ্যে সেলিমের ইমো নম্বরে যোগাযোগ করে বিয়ের আকুতি জানালে সেলিম তাকে বিয়ে করতে এবং টাকা-পয়সা ফেরত দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। উল্টো আইনের আশ্রয় নিলে তিন্নিকে 'দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার' অর্থাৎ প্রাণনাশের হুমকি দেন এই ছাত্রলীগ নেতা।
বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বজনদের সাথে আলোচনা করে অবশেষে তিন্নি আশুলিয়া থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে সক্ষম হন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সেলিম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আশুলিয়া থানা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, ক্ষমতা হারানো নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন নেতার এমন বেপরোয়া কাণ্ডে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছেন। তারা এই নেতার দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন