প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) শেখ নূর ইসলামের বিরুদ্ধে কানাডায় বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য পেয়েছে। তদন্তের সময় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের অন্তত ১৪ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ লাখ কানাডিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই শেখ নূর ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় গমন করেন। কানাডার বিমানবন্দরে শিলা ইসলাম ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার এবং দিশা ইসলাম ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার থাকার ঘোষণা দেন। তবে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অর্থ বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মানি লন্ডারিং আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
তদন্তের সময় কানাডায় শেখ নূর ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন নামে একটি কোম্পানির অস্তিত্বও পাওয়া যায়। ২০১৮ থেকে পরবর্তী চার বছরে সিঙ্গাপুরের নাই এনগোয়ান রেমিট্যান্স সার্ভিসের মাধ্যমে ওই কোম্পানির হিসাবে প্রায় ২২ লাখ কানাডিয়ান ডলার পাঠানো হয়েছে পণ্য আমদানির বিল হিসেবে। বাংলাদেশের রংকন হোম সলিউশনস লিমিটেড এসব অর্থ পাঠিয়েছে।
তবে বিএফআইইউর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই অর্থের বিপরীতে কানাডা থেকে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আসেনি। ফলে লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এছাড়া, নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডায় একাধিক কোম্পানির তথ্যও পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া এসব তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বর্তমান কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিব মন্তব্য করেন, "কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বা ঘোষণা ছাড়া বিদেশে অর্থ নিয়ে গেলে এবং তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক সরকারের সময়ে কোনো তদন্ত বা মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলে পরবর্তী সরকারও তা চালিয়ে যেতে পারে। মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ নূর ইসলাম এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেছেন যে, সালমান মুক্তাদিরকে বিয়ে করার কারণে তার মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া সম্পদের বাইরেও কানাডায় নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন