প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা করা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ চাপিয়ে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ কথা তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে নিষ্পেষণকারী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বিস্তারিত জানাননি, কোনো দেশের নামও উল্লেখ করেননি।
সোমবার ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে সংঘাতের কূটনৈতিক বা সামরিক সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপটি ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র চাপ প্রয়োগের অভিযানকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দেয়। এ অভিযানটি বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এপ্রিলে শুরু করা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু করছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে সহায়তা করায় সুযোগ দেয়, তবে সেই দেশ ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখোমুখি হবে।
কিন্তু তিনি ঠিক কেমন শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে কারা জড়িয়ে আছেন, তা সংশ্লিষ্টরা জানেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে সামুদ্রিক যান চলাচল লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘকাল ধরে এক্সচেঞ্জ হাউস ও শেল কোম্পানি মারফত অর্থ স্থানান্তরে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না দিতে সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীকে দেওয়া যেকোনো সহায়তাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরোপ করবে, যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফক্স নিউজের এক সাংবাদিককে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও হুমকি দেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমান যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তার প্রশাসনের জন্য ‘বাধা হয়ে দাঁড়ায়’, তাহলে তিনি দেশটিতে বোমা হামলা চালাতে পারেন।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মূলত ছয় মাস ধরে এই জলপথটি বন্ধ রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
এদিকে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের ব্যয় কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সে কারণে দেশটির সামরিক সদস্যদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে ট্রাম্প চাপের মুখে পড়েছেন।
সূত্র- বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন