প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য দিবালোকে নিরপরাধ তরুণ জুয়েল মিয়াকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে যখন উত্তাল কুলিয়ারচর, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জুয়েল হত্যাকারী উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন যুবকের নাম ও ছবি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এলাকায় নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, এই সুযোগে ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টা পার হতে না হতেই জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত উল্লেখ করে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা গ্রামের সাকিব, শাউন, সোহান, রনি, আসিফ ও জিদনীসহ বেশ কয়েকজনের নাম ও ছবি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতো দ্রুত কীভাবে সবার ছবি সংগ্রহ করা হলো এবং পোস্টকারীরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা রাজসাক্ষী কি না-তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বড়চারা গ্রামের যুবক মো. নাঈম আনোয়ার তার ব্যবহৃত ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন: "আমাদের যুবসমাজের কাছে অন্তত এমন সহিংস আচরণ কখনো আশা করিনি। গুটি কয়েক ছেলের জন্য আজ সমস্ত এলাকাবাসী বর্বরতার তকমা মাথায় নিয়ে ঘুরছে। সেই সাথে নিরপরাধ কিছু ছেলেদের নামও শোনা যাচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা শাস্তির আওতায় আসুক, সমাজে আবার শান্তি ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা।"
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো নিরপরাধ যুবক যেন অন্যের অপরাধের দায় নিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, আবার কোনো প্রকৃত অপরাধী যেন রাজনৈতিক সেল্টারে কিংবা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোনোভাবে পার পেয়ে না যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পরে পথচারীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জুয়েল গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। কোনো অপরাধ বা কোন্দলে জড়িত না থেকেও কেবল পরিস্থিতির শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হলো এই সম্ভাবনাময় যুবককে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার পর জুয়েল হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসির দাবিতে নিহতের নামাজে জানাজা শেষে এক অভূতপূর্ব বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লাশ দাফনের আগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী খাটিয়া কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে নিহতের নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গিয়ে শেষ হয়। শত শত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিছিলে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে অশ্রুসিক্ত নয়নে জুয়েলের মরদেহ সমাহিত করা হয়।
লাশ দাফনের পর ফেসবুকে ও প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয় রোববার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর বাজার ঈদগাহ সংলগ্ন রাস্তায় জুয়েল হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "হত্যার কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"
একটি নিরীহ যুবকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি এখন কুলিয়ারচরের সর্বস্তরের মানুষের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন