প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাগারের ভেতরে রয়েছেন।
সম্প্রতি, ইমরানের স্বাস্থ্য খারাপ হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একযোগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে চিঠি লেখেন।
এবার বাংলাদেশ দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক ইমরানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইমরানের প্রতি আচরণকে ‘বর্বরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আশরাফুল হক ইমরান খানকে ‘বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যেই ইমরান খান রাজনীতিতে এসেছিলেন। জনগণের কাছ থেকে তার দেশ পরিচালনার স্পষ্ট ম্যান্ডেটও ছিল। এমন একজন মানুষকে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে রাখা কোনো সভ্য দেশের কাছে কাম্য হতে পারে না।’
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ২১ অধিনায়কের উদ্বেগ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে আশরাফুল হক আরও বলেন, ‘মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।’
আশরাফুল ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ বন্ধুত্বের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে এসে তাদের পরিচয় হয়। সেই ম্যাচে ইমরান দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি সেঞ্চুরিও করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময়ও তাদের যোগাযোগ ছিল। আশরাফুল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতেন। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানের সফরের সময়ও তাদের দেখা হয়েছে। ইমরান রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল।
রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ইমরানের জীবন নিয়ে মাঝে মাঝে আশরাফুল শঙ্কিত থাকতেন বলেও তিনি জানান। তবে ইমরান এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না। ইমরান আশরাফুলকে বলতেন, ‘আমি যদি এভাবে মারা যাওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকি, তাহলে এভাবেই মরব। এটা আল্লাহর ইচ্ছা।’
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা ইমরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে উল্লেখ করেছেন আশরাফুল।
ইমরানের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথাও জানিয়েছেন আশরাফুল। ১৯৯০-এর দশকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের স্মৃতিও তার মনে আছে।
আশরাফুল হকের মতে, ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাধান্য না দিয়ে ইমরান পাকিস্তানের ভালোর জন্য লক্ষ্যেই রাজনীতিতে এসেছিলেন। বর্তমানে তার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে বিশ্ববাসীকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন