প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এশিয়ান গেমসের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আর দশটি টুর্নামেন্টের মতো নয়। ২০১০ সালে এই আসরে দেশের ক্রিকেটের একমাত্র এশিয়ান গেমস সোনার পদক অর্জিত হয়েছিল। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির লক্ষ্য নিয়ে বিসিবি এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরে বাংলাদেশের পূর্ণ শক্তির টি-টোয়েন্টি দল পাঠানো হচ্ছে। এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা যাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তকে।
শান্ত, যিনি টেস্ট অধিনায়ক, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ প্রায় দেড় বছর আগে খেলেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এশিয়ান গেমসের দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস এশিয়ান গেমসের দলে নেতৃত্ব দেবেন। দলে আরেকটি আলোচিত নাম হিসেবে জায়গা পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক এই পেসারও প্রায় দেড় বছর ধরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির বাইরে ছিলেন।
এশিয়ান গেমস আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানে শুরু হবে। ক্রিকেটের ছেলেদের ১০ দলের প্রতিযোগিতা ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট পেয়েছে। ফলে লিটনদের গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না। বাংলাদেশ আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সরাসরি শেষ আটের ম্যাচে মাঠে নামবে, যেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে হংকং অথবা ওমান।
তবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার দাবি করেন, বাংলাদেশের দল নির্বাচন অন্যদের অনুসরণ করে হয়নি। তিনি বলেন, "মূল লক্ষ্য ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি। আমরা আসলে সোনার পদক জিততে চাই, এজন্যই মূল দল বেছে নেওয়া। অন্যরা কী করছে, সেটা বড় কথা নয়।" ২০১০ সালে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে একমাত্র সোনা জিতেছিল ক্রিকেটে। এবার একটি সুযোগ হতে পারে। অলিম্পিকসে ক্রিকেট থাকলে, এটি প্রস্তুতির একটি অংশ হতে পারে।
শান্তকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে তিনি ভালো পারফর্ম করেছিলেন। ১৩ ম্যাচে ৩৫৫ রান করেছিলেন ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে, যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ছিল। তবে বিপিএল শেষ হয়েছে প্রায় আট মাস আগে এবং এর মধ্যে তিনি টি-টোয়েন্টিতে খেলেননি। ফলে তার সামর্থ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শান্তকে বেছে নেওয়ার পেছনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হাবিবুল। তিনি বলেন, "আমরা আসলে সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মাঝখানে আমাদের অনেক খেলা ছিল। বিপিএলের পর খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলিনি। একটি ব্যাপার ছিল, টি-টোয়েন্টি দলে কিছু নতুন খেলোয়াড় দেখার দরকার ছিল। আমরা বলেছিলাম, পরবর্তী ছয় মাস কিছু খেলোয়াড় দেখব। বিশ্বকাপের আগে কিছু খেলোয়াড় দেখব, এরপর দেখা বন্ধ হয়ে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "২০২৮ সালে বিশ্বকাপ, এর আগে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আমাদের খেলা কম। যদি কোনো ক্রিকেটারকে দেখার থাকে এটাই সুযোগ। এরপর আর দেখার সুযোগ থাকবে না।" অর্থাৎ নির্বাচকরা এশিয়ান গেমসকে শুধু পদক জয়ের মঞ্চ হিসেবে নয়, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড় যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে। সেই দলের মধ্যে এবার তিনটি পরিবর্তন এসেছে। ওই সফরের মাঝপথে চোটে পড়া নাহিদ রানা এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে আছেন। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মাংসপেশির চোটে পড়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। আর লিটন চোট কাটিয়ে ফেরায় কিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানকে জায়গা ছাড়তে হয়েছে।
হাসান মাহমুদের অন্তর্ভুক্তির পেছনে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বড় ভূমিকা রেখেছে। লাল বলের ক্রিকেটে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি তিনি দেশের বাইরের দুই টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলেছেন। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ ও টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট মিলিয়ে ছয় ম্যাচে তিনি নয় উইকেট নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতিই হাসানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্কোয়াড- লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলি চৌধুরি, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন