ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষি গবেষণা প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাতে উদ্ভাবনী মেলায় অংশ নিচ্ছে বাকৃবি


কৃষি গবেষণা প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাতে উদ্ভাবনী মেলায় অংশ নিচ্ছে বাকৃবি
দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬' অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের নির্বাচিত ৩৬টি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত কৃষিপণ্য, প্রাণীস্বাস্থ্য, প্রাণিজ উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদী বাকৃবি গবেষকেরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ইনোভেশন ফেয়ার কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলার মূল লক্ষ্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা। একই সাথে একটি সমন্বিত ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের আওতায় যুক্ত করে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বাস্তবিক প্রয়োগ এবং বাজারজাতকরণে যুক্ত করা। যার ফলে তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে সরাসরি বাজারমুখী করে তোলা এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

জাতীয় উদ্ভাবনী মেলায় বাকৃবির জোরালো অবস্থান নিয়ে আয়োজকরা জানান, এবারের জাতীয় মেলায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষে সক্রিয় ও জোরালো অংশগ্রহণ করবে। মেলায় বাকৃবি তিনটি ষ্টলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের নির্বাচিত ৩৬ টি উদ্ভাবনী প্রজেক্ট উপস্থাপিত হবে। কৃষিপন্য, প্রাণীস্বাস্থ্য, প্রাণীজ উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত উদ্ভাবনসমূহ, বৈজ্ঞানিক পোস্টার ও প্রোটোটাইপ এই মেলায় প্রদর্শিত হবে। এছাড়া বাকৃবির ওপর নির্মিত ভিডিও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য চলমান গবেষণা কার্যক্রমের পোস্টার, লিফলেট ও ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

আযোজকবৃন্দ আরও জানান, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড মো রফিকুল ইসলাম সরদার। বাকৃবির গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রদর্শণ, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভুঞাঁ এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর। তিন দিনব্যাপী মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাকৃবির সুনাম জাতীয় পর্যায়ে বহন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকবৃৃন্দ।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইনোভেশন ফেয়ার কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর, বাকৃবি আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রোস্তম আলী, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম, ফিশারিজ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মো শাহেদ রেজা, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড জি এম মুজিবর রহমান বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বাকৃবির অসংখ্য অর্জন রয়েছে। ইনোভেশন ফেয়ারের মাধ্যমে সেটি দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি প্রদর্শিত উদ্ভাবনী প্রযুক্তিসমূহ কৃষক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে বাজারজাত করণের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে কিভাবে ‘নলেজ ইকোনমি'তে রূপান্তর করা যায়, সে সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, মেলায় ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। মেলায় উদ্ভাবন প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৬টি প্লেনারি সেশন, ৬টি প্যারালাল সেশন ও ৫টি গোলটেবিল বৈঠকসহ তিন দিনে মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ নিহত

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রউফ (৩৪) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রউফ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কুমারকান্দি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি ব্যুরো বাংলাদেশের সোনাগাজীর কারামতিয়া শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত ব্যক্তি আখতারুজ্জামান (৩২) রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার মারিশা মুসলিম ব্লকের শাহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঐ সংস্থার শাখা হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।

আরো পড়ুন

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহর থেকে লালপোলের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত গতির কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ এবং তার সঙ্গে থাকা আখতারুজ্জামান গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু ঘটে।

ব্যুরো বাংলাদেশের হাজীরবাজার শাখার হিসাবরক্ষক মো. সবুজ বলেন, ‘ফেনী শহর থেকে লালপোল যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সহকর্মীর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কেউ মানতে পারছে না। এ ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত।’

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. রুহুল মোহসেন সুজন কালের কণ্ঠকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত আখতারুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মহিপাল হাইওয়ে থানার এসআই কবির হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ঘাতক কাভার্ডভ্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের চালক ঘটনার পরপর পালিয়ে গেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৩ মাস ধর্ষণের শিকার’ মাদরাসাছাত্রের আহ্বান, ‘মা, খুব কষ্ট হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


‘৩ মাস ধর্ষণের শিকার’ মাদরাসাছাত্রের আহ্বান, ‘মা, খুব কষ্ট হচ্ছে’

মির্জাপুর, টাঙ্গাইলের একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনের। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিভাবক এবং উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ও অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্রি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়া ছলে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাস স্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দোতলা এবং তিনতলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার ফতেপুর ইইনয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদরাসায় তিন বছর আগে শিক্ষক হিসেবে আল আমিন যোগদান করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার জামর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ১০ বছরের এক ছাত্র নাজেরা শাখায় ভর্তি হয় এবং আবাসিকে থাকে।

গত তিন মাস ধরে ওই ছাত্রকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন শিক্ষক আল আমিন। এর ফলে ওই ছাত্রের পেট ব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত পড়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। পরে সে তার মাকে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানালে তার তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নেন। বাড়িতে যাওয়ার পর একদিন সকালে নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পেয়ে ওই ছাত্রের মাকে বিষয়টি জানান। তবে ওই ছাত্র ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক

পরে মা তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে ওই ছাত্রকে মাদরাসায় রেখে যান। এই ১১ দিনের মধ্যে ৮দিন ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে আবারও তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা এসে তাকে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ওই শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষা করান তার মা। রিপোর্ট এবং ওই ছাত্রের স্বীকারোক্তিতে চিকিৎসক ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে চিকৎসক তার মাকে ছেলের পায়খানার রাস্তা দেখান এবং বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এদিকে, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় আসেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি জানান। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল তাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক আল আমিনকে পিটুনি দেয়।

অভিযোগ উঠেছে, মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মাদরাসার গেট বন্ধ করে লাঠি নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশনা দেন ছাত্রদের। পরে ছাত্ররা গেট বন্ধ করে লাঠি হাতে হামলার চেষ্টা চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে লোকজনের ভিড় বেড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

-ভুক্তভোগী শিশুর নানা বলেন, ‘এমন শিশু বাচ্চার সঙ্গে এমন আচরণ যে মানুষ করতে পারে সে তো মানুষ না পশু। আমি তার বিচার দাবি করছি।’

ভুক্তভোগী শিশু জানায়, গত তিন মাস যাবত শিক্ষক আল আমিন তাকে ফুসলিয়ে এবং নানা ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করেন। এতে তার পেট ব্যথা হওয়া ছাড়াও পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত যাচ্ছে। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মাকে জানায়, সে এখানে পড়বে না। তার এখানে খুব কষ্ট হচ্ছে।

ওই ছাত্রের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে ফোন দিয়ে বলে, মা এখানে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার পেট ব্যথা হচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না। ছেলের অসুস্থ থাকার খবরে মাদরাসায় আসলে অভিযুক্ত শিক্ষক ছেলেকে গ্যাস্ট্রোলিভারের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে তারা জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে চিকিৎসা করান।’

তিনি আরো বলেন, ‘মির্জাপুরের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে বিস্তারিত বলেন এবং সচিত্র দেখান। আমার ছেলের পায়খানার রাস্তা অনেক বড় হওয়া ছাড়াও ফেটে গেছে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পড়ছে। সঠিক চিকিৎসা না হলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। আমি এই নরপিশাচ শিক্ষক নামের কলঙ্ক আল আমিনের ফাঁসির দাবি জানাই।’

মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসার অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন। তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’

আপনি ওই ছাত্রকে গ্যাস্ট্রোলিভারের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন তার মাকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেট ব্যাথা হচ্ছে এজন্য বলেছেন।’

মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে এই প্রতিষ্ঠানে রাখবেন না।

জনতার ওপর হামলার নির্দেশের বিষয়ে তিনি জানান, অনেকেই আমার গলা চেপে ধরেছেন। এ জন্যই তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক মো. হেলিমের মৃত্যু, আহত খোকন মিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


করিমগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক মো. হেলিমের মৃত্যু, আহত খোকন মিয়া

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বজ্রপাতে মো. হেলিম (৩২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন খোকন মিয়া (৪০) নামের আরো একজন শ্রমিক। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিয়াপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক হেলিম নামাপাড়া গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের পুত্র। তার তিনটি সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স চার বছর, দুই বছর এবং ৯ মাস। আহত খোকন মিয়া একই এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে খোকন মিয়াসহ আটজনের একটি দল নিয়ে হেলিম পাশের নামাপাড়া গ্রামে ধনেপাতা সংগ্রহ করতে যান। কাজের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে আকাশ অন্ধকার হয়ে যায় এবং বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন হেলিম। পাশেই থাকা খোকন মিয়া বজ্রপাতের বিকট শব্দে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে, তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে হাসপাতালে আহত খোকন মিয়ার চিকিৎসা চলছে।

আরো পড়ুন

‘৩ মাস ধর্ষণের শিকার’ মাদরাসাছাত্রের কল—‘মা খুব কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও’

করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. সোহেব খান বজ্রপাতে হেলিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর, মরদেহ রেখে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন

চিকিৎসাসেবায় কোনো অনিয়ম ও অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিয়াম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে স্ত্রী শাহিনাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক ইসিজি করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিয়াম প্রাইভেট কার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে নিহতের মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে, সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পলাশবাড়ী থানা পুলিশ পরে তাকে হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণার পরপরই সিয়ামের আচরণ লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি প্রাইভেট কার নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন সিয়াম। তিনি দাবি করেন, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর শাহিনা ও সিয়াম পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে সিয়াম প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।’

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, ‘স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টার ঘটনায় মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে পুরনো একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%