ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হবে: মঈন খান


সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হবে: মঈন খান

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

মন্ত্রী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলা আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি এ সময় বলেন, আওয়ামী লীগের গত চারটি নির্বাচন ছিল ভুয়া। মৃত মানুষের ভোটও তারা নিজেদের পক্ষে দিয়েছেন। যারা ভোট দেননি, তাদের ভোটও আওয়ামী লীগের পক্ষে দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলমের শুভেচ্ছা

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে একটি চমৎকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেবেন।

বর্তমান সংকট নিয়ে দেশের জনগণের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মঈন খান বলেন, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুনভাবে রাজনীতি শুরু করেছেন। অচিরেই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ তার সুফল পাবে।

আলোচনা সভায় পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আলামিন ভূইয়াসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীর কালুখালীতে মোটরসাইকেল-ভ্যানের সংঘর্ষ, ট্রাকের চাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিতে গিয়ে মো. সেলিম মাঝি (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মৃত মো. সেলিম মাঝি ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার পুত্র।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম মাঝি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত হন। আলোচনা সভা চলাকালীন হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

এদিকে সেলিম মাঝির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশিদ।

তিনি মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "আমরা তার পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করব।" সেলিম মাঝির মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা কারও পাতানো ফাঁদে পা বাড়াবো না : গয়েশ্বর চন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


আমরা কারও পাতানো ফাঁদে পা বাড়াবো না : গয়েশ্বর চন্দ্র

ঢাকা দক্ষিণ, ১ সেপ্টেম্বরে, ২০২৬ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শহীদ জিয়া থেকে বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিক অবদান তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার মূল আকাক্সক্ষা ছিল গণতন্ত্র। সেই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার শাহাদাতের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধার করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হলে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসে বসে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তিনি সকল রাজপথের দলকে এক ছাতার নিচে এনে ৩১ দফার ভিত্তিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা কারও কথায় কান দেব না এবং কারও পাতানো ফাঁদে পা বাড়াবো না।" তিনি উল্লেখ করেন, "শত ভাইয়ের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এ গণতন্ত্র ও সরকারের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবে।" গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "ভেতরে বা বাইরে যারা বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের বিএনপি নয়, এ দেশের জনগণই প্রতিহত করবে।"

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদের পতনে বিএনপি নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই রাজপথে সর্বাত্মক ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আন্দোলনের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঘোষণা করেন, "আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পঙ্গু ও আহত হয়েছেন, বিএনপি সরকার তাদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও জীবন পুনর্বাসনে বদ্ধপরিকর।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী এমপি।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। এতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা নানা রকম প্লে-কার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করবেন। সদ্য পাসকৃত ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় ড. মিলন উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী করার জন্যই তাদেরকে এই উপহার দেওয়া হবে। এটি একটি চমকপ্রদ উদ্যোগ। মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।”

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “দেখেন, আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটি গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ তাদেরকে দেওয়ার জন্য। এগুলো হচ্ছে শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা।”

ড. মিলন জানান, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে, যা আমাদের জন্য একটি জটিলতা। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাজেট অ্যালোকেশন হতে শুরু করে আমাদের প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক বিষয়গুলো কীভাবে ব্যবস্থা করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছিল।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি এবারের বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করেছেন এবং এটিকে তিনি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছেন। এই ধরনের শিক্ষায় বিনিয়োগ পূর্ববর্তী সরকার করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ হত্যা: ৮ মাসেও অধিকাংশ আসামি অধরা, তদন্তে সিআইডির গতি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আকুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিবেদক সুনামগঞ্জ

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ হত্যা: ৮ মাসেও অধিকাংশ আসামি অধরা, তদন্তে সিআইডির গতি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আকুতি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় সালিশ ব্যক্তিত্ব আব্দুল আহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ এজাহারভুক্ত আসামি অধরা রয়ে গেছে। ঘটনার দীর্ঘদিন পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকি ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের পরিবার।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও নৃশংসতার বিবরণ
নিহত আব্দুল আহাদ এলাকায় একজন সফল ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাট-বাজার, নদী ইজারা এবং বালু-পাথরের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ কালোবাজারি ও চোরাচালানের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করায় তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের তীব্র রোষানলে পড়েন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন (১৫ ডিসেম্বর) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস জেলার চেল্লা থানার আওতাধীন একটি নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে এনে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরিবারের তথ্যমতে, আব্দুল আহাদের মাথা, বুক, গলা, কোমর ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা টি-শার্ট, স্যান্ডেল, গ্যাস লাইট এবং ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের অডিও বাদীপক্ষের হাতে আসে। পরিবারের দাবি, অডিওটির পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের পরিচয় অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১ নম্বর আসামি আব্দুল আজিজ গং এলাকায় ভারতীয় গরু-মহিষের বিশাল সীমান্ত চোরাচালান ও 'কালো স্মাগলিং' রাজত্ব পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ভারত থেকে গরু-মহিষ বাংলাদেশে এনে ব্যবসা করেন। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, "সরকারের রাজস্ব দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাই না, তাই রাজস্বও দিই না।" একজন হত্যা মামলার আসামির এমন খোলামেলা চোরাচালান ও কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা ও হুমকির মুখে পরিবার
মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিচয় প্রাপ্ত ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি হলেন:
১. আব্দুল আজিজ (৫৫), পিতা: মৃত আব্দুল গফুর, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
২. ইয়াকুব আলী (৪০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৩. কদ্দুছ আলী (৫০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৪. ফয়ছল আহমদ (৩৫), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
৫. (তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে)
৬. নজরুল ইসলাম (৫০), পিতা: মৃত আতাউর রহমান, গ্রাম: দ্বীনেরটুক।
৭. আরিফুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মৃত আমিনুল ইসলাম শাহা, গ্রাম: শ্রীপুর।
৮. ফখরুল আলম বাবলু (৩৫), পিতা: মৃত মুক্তার আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৯. আব্দুল আলী (৪৫), পিতা: মৃত ছাদ উল্লা, গ্রাম: তেরাপুর (হাতিরভাঙ্গা)।
১০. আরমান আলী (৩৫), পিতা: কদ্দুছ আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন জামিন নিয়ে বাইরে এসে মামলা তুলে নিতে অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আসামিদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
গায়েব কাপড়ের আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে রহস্য
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আব্দুল আহাদের মরদেহ দেশে আনা হলে, তার পরনে জ্যাকেট, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট ও জুতা ছিল বলে জানান মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই আব্দুল কাইয়ুম ফারুক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের পরনের সমস্ত কাপড় আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) কাছে হস্তান্তর করি এবং তিনি তা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত একটি কক্ষে সংরক্ষণ করে আমাদের দেখান। কিন্তু পরবর্তীতে সিআইডির কাছে মামলা হস্তান্তর ও চূড়ান্ত আলামত তালিকার সময় থানা পুলিশ সেই কাপড়ের তথ্য রহস্যজনকভাবে লুকিয়ে ফেলে এবং সিআইডির কাছে আলামত হিসেবে শুধুমাত্র একটি গেঞ্জি হস্তান্তর করে।"
এই বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, কাপড়ের বিস্তারিত তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) বলতে পারবেন। পরবর্তীতে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শামসুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি এসআই জলিলের ওপর দায় চাপান। অন্যদিকে এসআই জলিল জানান, "আমি শুধু বিট অফিসার হিসেবে সাথে গিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী আইও এই আলামত উদ্ধার করবেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"
একটি হত্যা মামলায় পরনের পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত। সিসিটিভি ফুটেজ সমৃদ্ধ থানা হেফাজত থেকে আলামত উধাও হয়ে যাওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একের পর এক দায় এড়ানো বক্তব্য চরম দায়িত্বহীনতার শামিল। অনৈতিক লেনদেন বা অপশক্তির প্রভাবে আলামত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ ও সিআইডির প্রতি পরিবারের আকুতি
তদন্তের শ্লথগতি দেখে নিহতের ভাই মো. আ. কাইয়ুম ফারুক সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা কোনো বৈষম্য চাই না, কেবল আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।"
বর্তমানে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডির (CID) ওপর ন্যস্ত রয়েছে। আলামত উদ্ধার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে ৪টি মূল দাবি জানিয়েছেন:
* দ্রুত পদক্ষেপ: পলাতক ও চিহ্নিত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা।
* স্বচ্ছ তদন্ত ও ফুটেজ বিশ্লেষণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে উধাও হওয়া আলামত উদ্ধার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল।
* নিরাপত্তা প্রদান: মামলার বাদী, সাক্ষী ও ভভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
* দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: বিচারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%