প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার ও রোববারের মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে।
পুলিশের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনে জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের’ মধ্যে সংঘর্ষে কুকি জনগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি নিহত হন।
এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই জনগণের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি অভিযান চালানোর পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
কুকি জনগোষ্ঠীর একটি শীর্ষ সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি ঘটনাটিকে তাদের মাতৃভূমিতে ‘সরাসরি ও বিনা উসকানিতে চালানো হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইমফলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রত্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিজেদের জাতিগত আবাসভূমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি জনগোষ্ঠীর কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক নাগা ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর সর্বশেষ এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
এরপর মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কুকি সম্প্রদায়ের তিন ধর্মযাজককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
সর্বশেষ কুকি-নাগা সংঘাত মণিপুরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। রাজ্যটিতে প্রধানত হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাত চলছে। ২০২৩ সালের মে মাসে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে বিরোধের জেরে ওই সংঘাত শুরু হয়।
এই সংঘাতে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন