প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাজী মো. ফিরোজ হাসান ১৭ দেশে কমপক্ষে ২৫ বার ভ্রমণ করেছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) কাজী মো. ফিরোজ হাসান সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে ১৭ দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি এমন অনেক প্রকল্পের নামের সাথে যুক্ত নয়, সেগুলিতেও নাম রেখেছেন, তার ফলে ১৭ দেশে তিনি ২৫ বার ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে।
কাজী ফিরোজ হাসান নিজেকে একজন সৎ কর্মকর্তা বলে দাবি করেন, কিন্তু চাকরির প্রায় পুরো সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করে থাকলেও সবসময় বিদেশে ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ১৭ বছর ধরে প্রকিউরমেন্ট এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন ইউনিটে (পেকু) কর্মরত থাকায়, তিনি সবার কাছে ‘পেকু ফিরোজ’ নামেই পরিচিত।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে হালনাগাদভাবে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো:
১। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে ট্রেনিং ও সরকারি সফরের নাম করে তিনি নিজের সঙ্গী নয় এমন নানা প্রকল্পে নাম যুক্ত করে ১৭টি দেশে সর্বনিম্ন ২৫ বার ভ্রমণ করে অর্থ অপচয় ও অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। (এটি উল্লেখ্য যে, তিনি স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী নন, তিনি তো গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা)।
২। বিদেশ ভ্রমণ ও অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ অতিরিক্ত বিদেশ ভ্রমণ: নিজের দাপ্তরিক কাজের পরিধির বাইরের বেশ কিছু প্রকল্পের নাম ও সুযোগ ব্যবহার করে ১৭টি দেশে প্রায় ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।
৩। প্রশিক্ষণের অপব্যবহার: অফিসিয়াল ট্রেনিং বা সফরের নাম করে সরকারি তহবিলের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে এই ভ্রমণগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে।
এই কর্মকর্তা বিগত সরকারের সময়ে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রকল্পে যুক্ত হয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সখ্য গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজের প্রভাব বজায় রেখে চলেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী ফিরোজ হাসানের চাকরির বয়স প্রায় ২৮ বছর। খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে তিনি খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেন। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ স্টাফ অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন ফিরোজ হাসান। সেই বছরের মার্চে তিনি সাভার গণপূর্তে বদলি হন।
২০০১ সালে কাজী ফিরোজ হাসান পিপিসি বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী-৩ পদে ঢাকায় বদলি হন। ওই সময় থেকে নিখাদভাবে এখন পর্যন্ত তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। ২০০৯ সালে এক মাসের জন্য নেত্রকোনায় কাজ করা ছাড়া বাকিটা সময় তিনি ঢাকায় রয়েছেন। চাকরি জীবনের প্রায় পুরো সময় ধরে ফিরোজ হাসানের ঢাকায় অবস্থান নিয়ে গণপূর্তের সহকর্মীদের মধ্যে অনেকের মনঃপূত নয়।
ঢাকায় অবস্থান করার প্রসঙ্গে ফিরোজ হাসান বলেছেন, ‘আমি ঢাকায় আছি ঠিক আছে। তবে আমি প্রকল্পের কাজে ছিলাম, ওয়ার্কিংয়ে তো ছিলাম না। এই প্রকল্পগুলো তো নন প্রফিটেবল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিদেশ ভ্রমণের ব্যস্ততা
কিন্তু সহকর্মীদের সবচেয়ে বেশি অখুশি তার দীর্ঘ সময় ধরে একই বিভাগে পদায়নের কারণে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ঢাকায় গণপূর্তের প্রকিউরমেন্ট এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন ইউনিটে বদলি হন। এরপর থেকে তিনি এই বিভাগেই কাজ করে চলেছেন ফিরোজ হাসান। ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী, তারপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে। বর্তমানে তিনি সংস্থাপন শাখার পাশাপাশি পেকু বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন।
গণপূর্তের পেকু বিভাগ মূলত ক্রয় সংক্রান্ত সকল কাজ করে থাকে। ১৭ বছর ধরে পেকু বিভাগে কাজ করার কারণে গণপূর্তের মনে ফিরোজ হাসানকে সবাই ‘পেকু ফিরোজ’ নামে চিনে।
এটি বলা যেতে পারে যে, ফিরোজ হাসানের ঢাকায় থাকা এবং পেকু নামক গল্পের এক অধ্যায় রয়েছে। তার আরেকটি কাজ হলো, ট্রেনিংয়ের নামে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ গ্রহণ করা। ফিরোজ হাসানের বিদেশ ভ্রমণ শুরু হয়েছে ২০০৯ সালের জুন মাস থেকে। সরকারের অর্থায়নে সেই সময় তিনি ৬ দিনের জন্য ‘ফ্যাসিলিটি মডার্নাইজেশন’ শিরোনামে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। এরপর তিনি একে একে জাপান, মিসর, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, স্পেন, ভারত, তুরস্ক, বেলজিয়াম, গ্রিস, ফিনল্যান্ড এবং বুলগেরিয়া হয়ে এসেছেন। তার এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে সেন্ট্রাল এসি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি ট্রেনিংয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে তিনি জানতে পারেন যে সেখানে যেতে পারেননি।
বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে ফিরোজ হাসান উল্লিখিত করেছেন, ‘আমি আসলে এতগুলো ট্রেনিংয়ে যাইনি। আমার বেশি কম হয়। আপনি গণপূর্তে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আরও অনেকেই আছেন, যারা ট্রেনিংয়ে যান। আমার চেয়ে বেশি যারা গেছেন, এমন অনেককেও আপনি পাবেন।’
তার সহকর্মীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ফিরোজ হাসান নিজের অদক্ষতার কারণে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেননি। নিজের অক্ষমতা ঢাকতে বিভাগের সব কর্মকর্তাকেই দুর্নীতিবাজ বলে আক্রমণ করেছেন।
গণপূর্তের স্বজনপ্রীতির লটারি
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে ২৪ আগস্ট ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রকৌশলী সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলামের আশীর্বাদ নিয়ে নিজের সংস্থার সহকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতেন। তিনি গণপূর্ত বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তার ‘আমলনামা’ গোপনে সচিব নজরুল ইসলামকে সরবরাহ করেছেন। এরপর ওই সচিব ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলমের সাথে মিলে সংস্থার বিষয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর স্তব্ধতায় ' কান ভারী ' করে দিয়েছেন। এতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালু করেন। ফলে দৈনন্দিন কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হতে থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন