প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ইউনিটের করপূর্ব মুনাফা প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিটটির করপূর্ব মুনাফা প্রায় ২২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৯০ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে মুনাফার বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
একই সময়ের মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিটের বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইউনিটের বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৪৪৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা বেশি। বিক্রির বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ।
তবে, এসব হিসাব এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবের আনুষ্ঠানিক নিরীক্ষা এখনও সম্পন্ন হয়নি।
কেরুর কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি মদ আমদানিতে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে শুল্ক ফাঁকি রোধের উদ্দেশ্যে বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোরতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই কেরুর ডিস্টিলারি ব্যবসায় বিক্রি এবং মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানির মুনাফাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেরুর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় টানা চতুর্থ বছর ৪০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। একইভাবে, টানা পঞ্চম বছরের জন্য এ ইউনিটের নিট মুনাফা ১০০ কোটি টাকার বেশি রয়ে গেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিস্টিলারি ইউনিটের করপূর্ব মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ কোটি টাকা করপোরেট কর প্রদান করার পর নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১৫৮ কোটি টাকায়।
ডিস্টিলারি ব্যবসায় ভালো আয় হলেও কেরুর চিনি ইউনিট এখনও লোকসানে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইউনিটে প্রায় ৬০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
রাব্বিক হাসান জানান, ডিস্টিলারি ইউনিটে মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও চিনি পুনরুদ্ধারের হার না বাড়ায় চিনি ইউনিটের লোকসান অব্যাহত রয়েছে। এ লোকসান কমানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতীয় চিনি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এটি পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর হলে লোকসান কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিনি ইউনিটের বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় এই খাতের বিক্রি প্রায় একই স্তরে স্থির রয়েছে।
ডিস্টিলারি ব্যবসার পাশাপাশি কেরুর বাণিজ্যিক খামার, জৈব সার এবং ফার্মাসিউটিক্যালসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। এসব খাতের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব ব্যবসায়িক খাত মিলিয়ে কেরুর সমন্বিত রাজস্ব ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৯৭ কোটি টাকা। চিনি ইউনিটের লোকসান সমন্বয় করার কারণে ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফার তুলনায় সামগ্রিক নিট মুনাফা কম ছিল।
১৯৩৮ সালে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা চিনিকল পরিচালনা। এর পাশাপাশি আখের চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল উৎপাদনের জন্য একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারি রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আখের ছোবড়া থেকে জৈব সার উৎপাদন, বাণিজ্যিক খামার পরিচালনা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন