প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে পুরুষদের সুপার৫০ ও নারীদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের পুরুষদের সুপার৫০ এবং নারীদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ টুর্নামেন্টের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
সিডব্লিউআই জানায়, এই পদক্ষেপটি তাদের ‘সমন্বিত পাল্টা আক্রমণ’-এর অংশ, যা আর্থিক, উন্নয়নমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ আগের মতো ১২ মাস থাকবে, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটারদের রিটেইনার চুক্তির মেয়াদ ১২ মাস থেকে কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার প্রবণতা দেখা গেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সিডব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেহরিং বলেন, খেলোয়াড় ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "সিদ্ধান্তটি আদর্শ না হলেও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয়।"
সিডব্লিউআই ঘরোয়া টুর্নামেন্টের বর্তমান কাঠামোকে ‘অস্থিতিশীল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বয়সভিত্তিক, উন্নয়নমূলক ও সিনিয়র—পুরুষ ও নারী সব পর্যায়ের জাতীয় দল ও টুর্নামেন্টের জন্য বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল ও আয়োজনের খরচ বোর্ড বহন করে আসছিল।
ডেহরিং জানান, গত ১৫ বছরে ঘরোয়া যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইনকে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি দিয়েছে সিডব্লিউআই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এর বিপরীতে কোনো স্পনসরশিপ অর্থ পায়নি বোর্ড। ফলে ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালনার এই ব্যয় তাদের সীমিত সম্পদের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
এছাড়া নগদ অর্থের সংকটও রয়েছে। সিডব্লিউআই জানায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বোর্ডটিকে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণসুবিধা অনুমোদন করেছে। আগামী এক বছরে তিন ধাপে ওই অর্থ পাওয়ার কথা। তবে ঋণ পাওয়ার জন্য কিছু আর্থিক শর্ত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে, যা চলতি মাস থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
সুপার৫০ স্থগিত হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রস্তুতির ধাপ বন্ধ হয়ে গেল। ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য বাছাইপর্ব খেলতে হবে তাদের।
সুপার৫০ না থাকলেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতিতে ওয়ানডে ক্রিকেটারদের জন্য নভেম্বর মাসে সফরকারী ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সাদা বলের ম্যাচ আয়োজন করবে সিডব্লিউআই। এর পর ওয়ানডে দলের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট কাঠামোর সামনে আরও একটি বড় পরিবর্তন অপেক্ষা করছে। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আগামী দুই বছরে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। আগামী বছর লিমায় প্যান আমেরিকান গেমস এবং ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পৃথক ক্যারিবীয় দেশগুলো নিজেদের জাতীয় দল পাঠাবে।
২০২৫-২৬ সুপার৫০-এর শীর্ষ চার দলকে প্যান আমেরিকান গেমসের পুরুষ ইভেন্টের বাছাই দল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেখানে ৫০ ওভারের বদলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হবে। নারীদের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ টি-টোয়েন্টি ব্লেজের শীর্ষ চার দলকে বাছাই করা হয়েছিল।
সুপার৫০ ও টি-টোয়েন্টি ব্লেজ স্থগিতের বদলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের জন্য পৃথক বাছাই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে সিডব্লিউআই। এসব টুর্নামেন্টের খরচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড বহন করবে।
সিডব্লিউআইয়ের অধীনে থাকা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের যোগ্য ১০টি দেশের জন্য আমন্ত্রণভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। বিজয়ী দলগুলো আইসিসির অলিম্পিক বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে এবং সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার জন্য লড়াই করবে।
অন্যদিকে আগামী বছরের নারী সুপার৫০-এর পরিবর্তে আয়োজন করা হবে ‘বেস্ট বনাম বেস্ট ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্ট’। তবে চার দিনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপ আগের কাঠামোতেই চলবে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের মতো প্রতিটি দল তিন ম্যাচের একটি করে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে। এরপর সম্মিলিত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ তিন দল প্লে-অফে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন