প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকার কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি বাল্কহেড এবং রিফাজ জাহান ইকরা-১ নামের একটি লোড ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়।
এছাড়া, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই এম-১ এবং এমবি জোবেদা নামের দুটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সূত্র জানায়, নগরীর কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাতের নীরবতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশন বরিশাল দক্ষিণ জোনের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি নগরীর চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা আল আমিনের মালিকানাধীন দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার দেখতে পান।
প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চালকরা জলযানগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাল্কহেড ও ড্রেজারগুলো জব্দ করা হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাল্কহেড চালক বাচ্চু, শ্রমিক আব্দুল জলিল, মো. লিটন ও হুমাউন। অভিযানের সময় অন্য কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে আটককৃতরা জানান।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবরও একই স্থানে অভিযান চালিয়ে আল আমিনের মালিকানাধীন ওই দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার জব্দ করেছিল প্রশাসন। সে সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে জরিমানা আদায়ের পর জব্দ করা বাল্কহেড ও ড্রেজারগুলো মালিক আল আমিনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। এরপর মাত্র ১১ দিন যেতে না যেতেই ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে একই সরঞ্জাম আবারও দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলনের সময় জব্দ হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এদিকে বরিশালের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দপদপিয়া সেতু। সেতুর নিচে নিয়মিত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর পিলার ও ভিত্তির আশপাশের মাটি সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এমনকি সেতুর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের অবকাশ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জানান, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করেছেন। এ সময় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন