প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সমিরন বেগম (নাম) নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথা এলাকায় অবস্থিত সততা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সমিরন বেগম জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, সমিরন বেগম দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এর আগে আট মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার পরও তিনি একই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে তাকে সততা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুরের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রোগীকে ছাড়পত্র (রিলিজ) দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন স্বজনরা। কিন্তু সময়মতো ছাড়পত্র না দেওয়ায় তাদের সঙ্গে ক্লিনিকের স্টাফদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে রোগীর অবস্থা আবারও সংকটাপন্ন হলে বিকেলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে স্বজনরা ক্লিনিকে ফিরে এসে দেখেন, ঘটনার পর ক্লিনিকের মালিক, চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কেউ সেখানে উপস্থিত নেই।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু রক্ত সঞ্চালন না হওয়ায় দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সেই রকম সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে। তাদের অভিযোগ, ওই সময় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। তারা আরও দাবি করেছেন, ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং মালিকের পরামর্শে আয়া, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরাই চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করছিলেন।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সততা ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
তবে ক্লিনিকের মালিক রেশমী বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী গর্ভবতী ছিলেন না; তার গর্ভপাত ঘটেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে ক্লিনিকে আনা হয়েছিল রক্ত দেওয়ার জন্য। তবে কোন চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত দেওয়া হচ্ছিল—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন, এ বিষয়ে থানায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন