প্রিন্ট এর তারিখঃ ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৩:১৬ এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৪:১৯ পি.এম
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!
পৃথিবী আজ মহাপ্রলয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শেষ জামানা সম্পর্কে মুসলমানদের কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য বিষয় বর্ণিত হয়েছে। সবগুলো বিষয়ে এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজকের মধ্যপ্রাচ্য যে অগ্নিগর্ভ তা কাদের কারণে হচ্ছে, কারা এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং কারা না বুঝে সেই যুদ্ধে জড়াচ্ছে তা জানা জরুরি।
বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা করে সেই অগ্নিগর্ভের সূচনা করেছে। যার আগুনে পুড়ছে গোটা আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠী। জায়নবাদী ইহুদী ও নাসারা (পশ্চিমা খ্রিষ্টান সম্প্রদায় যারা রোমান ক্যাথলিক (Roman Catholic), যাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল লানত করেছেন অর্থাৎ তাদের প্রতি বদদোয়া করেছেন, ঘৃণা করেছেন। তবে এই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ওই লানতপ্রাপ্ত ও ঘৃণিত শ্রেণীরা নয় যারা প্রোটেস্ট্যান্ট (Protestant) ও ইস্টার্ন অর্থোডক্স (Eastern Orthodox)) খ্রিস্টান সম্প্রদায়।
এই পশ্চিমা জায়নবাদীদের উদ্দেশ্যই হল মুসলিম জাতি গোষ্ঠীকে পৃথিবীতে দাস শ্রেণীতে পরিণত করা এবং তাদেরকে ধ্বংস করা। আজকে ফ্রান্সে যা হচ্ছে তার পরিণতির কারণ হলো, এই ফ্রান্স ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। যে কারণে পশ্চিমা আধিপত্যবাদী মার্কিন শক্তি সেই ফ্রান্সে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ফ্রান্স সরকারকে পতন ঘটানোর পথে নিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে যারা তাদের অনুসারী হতে চাচ্ছেনা তাদেরকেই ধ্বংস করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। দিকে দিকে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, এই যুদ্ধই কেয়ামত ঘনিয়ে নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেষ জামানায় আল্লাহ তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা করবেন দাজ্জালের অনুসারীদের পক্ষের এবং বিপক্ষের শক্তি হিসেবে, পরীক্ষা করবেন ইয়াজুজ ও মাজুজ যারা মূলত পশ্চিমা শাসক শ্রেণী এবং ইহুদী তথা জায়নবাদী শ্রেণী হিসেবে ইতিমধ্যে আবির্ভূত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃত আল্লাহ ও রাসূলের কোরআন ও হাদিসের অনুসারী মুসলিম কারা এবং তার লানত প্রাপ্ত বা অভিশপ্ত ইহুদী-নাসারা এবং তাদের অনুসারী কোন মুসলিম নামধারী মুশরিক এবং কাফেররা তা চিহ্নিত করার সময় হয়তোবা এখন চলছে।
এই সময়ে কোন মুসলিমরা প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং কারা তাদের পদলেহন করছে - এ থেকেই দাজ্জালের পক্ষ শক্তি, ইয়াজুজ মাজুজ এর পক্ষ শক্তি এবং তার বিপক্ষে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কোন মুসলিম জাতি গোষ্ঠী তা সহজেই নির্ধারণ করা যায় বলে মনে হচ্ছে। এই যুদ্ধ থেকেই তার প্রমাণ মিলবে। এখন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর শাসকেরা কার অনুসারী হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারীদের অনুসারী , ইয়াজুজ মাজুজ এর অনুসারীদের অনুসারী নাকি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকৃত ইসলামের অনুসারী তা চিহ্নিত করার সময় এসেছে।
যে ইরান পশ্চিমা বিশ্বের গোলামী করবে না বলে দীর্ঘ অর্ধশতক ধরে লাঞ্চিত, অপমানিত এবং নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হয়ে অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় পড়েও পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদিদের গোলামী করতে অস্বীকার করেছে, তাদের অনুসারী লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, সিরিয়া ও ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স, ও সর্বশেষ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যারা না খেয়ে থেকে নিজেদের অর্থ ও জীবন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে ব্যয় করছে এবং দুনিয়ার দাজ্জাল তথা ইয়াজুজ ও মাজুজের পদলেহন করে তাদের অনুসারী হতে চায়নি। তাদের বিরুদ্ধে যারা হামলে পড়ছে, তাদেরকে ধ্বংস করছে, তাদেরকে হত্যা করতে চাচ্ছে সেই ইহুদি শক্তির গোলামী করছে কোন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো? এ থেকেই খুব সহজেই চিনে নেওয়া যাবে কারা দাজ্জাল , ইয়াজুজ ও মাজুজের অনুসারী আর কারা প্রকৃত ইসলাম তথা মুসলমান এবং আল্লাহ ও রাসূলের অনুসারী। সুতরাং শেষ সময়ে আল্লাহ তার প্রকৃত বান্দা ও রাসূলের উম্মতগণকে সাহায্য করবেন।
কেন ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলেই সবাই পরাজিত হবে?
============================
মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ শাম (الشام) ও ইয়েমেন (اليمن)-এর জন্য বরকতের দোয়া করেছেন এবং ইয়েমেনবাসীর ঈমান, কোমল হৃদয়, ধর্মীয় প্রজ্ঞা ও হিকমতের প্রশংসা করেছেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে একাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য দোয়া করার সময় সেখানে তৎকালীন নাজদ বর্তমান সৌদি আরব তথা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এই অঞ্চলের বাসিন্দারাও রাসূলের সামনে উপস্থিত ছিলেন তারা একাধিকবার রাসূল(সাঃ)কে তাদের অঞ্চলেও রহমত ও বরকতের জন্য দোয়া করার কথা বললেও তিনি তা করেননি। বরং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উত্তরে বলেছিলেন, "সেখানে ভূমিকম্প হবে এবং ফিতনা তৈরি হবে সেই সাথে সেখানে শয়তানের শিং উত্থিত হবে।"
তৎকালীন নাজদ নামক অঞ্চলটি মূলত আজকের সৌদি আরব ও তার রাজধানী রিয়াদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সহিহ বুখারীর হাদিস নং ১০৩৭ এবং ৭০৯৪ দুটি হাদিসেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসুল(সাঃ), আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'শাম' ও 'ইয়েমেন' বাসীদের জন্য আল্লাহর কাছে রহমত ও বরকতের দোয়া করেছিলেন, কিন্তু সৌদি বা 'নাজদে'র জন্য নয়। হাদিসে বর্ণিত শাম অঞ্চল বলতে প্রধানত বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিন বোঝানো হয়।
সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১০৩৭
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا.
قَالَ: قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا؟
قَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا.
قَالَ: قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا؟
قَالَ: هُنَاكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ، وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ.
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ দোয়া করেছিলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন!"
তৎকালীন নাজদ তথা বর্তমান সৌদি আরব ও রাজধানী রিয়াদের উপস্থিত লোকেরা রাসূলকে রহমত ও বরকতের জন্য বলছিলেন, ‘আমাদের নাজদেও?’
কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো বললেন, '‘হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন’'
ঐ লোকেরা আবারও বলল, ‘আমাদের নাজদেও(বর্তমান সৌদি আরব ও রাজধানী রিয়াদ অঞ্চল)’
তিনি তখন বললেন, '‘সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা রয়েছে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে।’'
যা আজকের বর্তমান পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন-ইজরাইল রাষ্ট্রের শাসকদের পা চাটা গোলামেরা সেই সৌদি আরব তথা আরব রাষ্ট্রগুলোর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এটি তার বাস্তব প্রমাণ, যা প্রায় ১৪০০ কিংবা সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে আল্লার রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছিলেন।
অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তিন দিন শুধু শাম ও ইয়েমেন বাসীদের জন্য শুধু দোয়াই করেননি বরং তাদের প্রশংসা সূচক কথাও বলেছেন যা সহীহ হাদিসগুলোতে বর্ণিত হয়েছে নিম্নরূপঃ শাম ও ইয়েমেন বাসীদের প্রশংসায় মহানবী ﷺ-এর বাণী
সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৪৩৯০
বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
«أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَصْحَابِ الْإِبِلِ، وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ».
অর্থ:আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
‘তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান ইয়েমেনের এবং হিকমতও ইয়েমেনের। অহংকার ও আত্মম্ভরিতা উটের মালিকদের মধ্যে রয়েছে; আর প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য রয়েছে ছাগল-ভেড়ার পালকদের মধ্যে।’
এছাড়াও সহি মুসলিমে শাম ও ইয়েমেন বাসীদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস নিম্নরূপ
সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৫২
বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি:
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ الْأَعْرَجِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَضْعَفُ قُلُوبًا وَأَرَقُّ أَفْئِدَةً، الْفِقْهُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ».
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
‘তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং তাদের হৃদয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্বীনের গভীর উপলব্ধি ইয়েমেনের এবং হিকমতও ইয়েমেনের।’
সহীহ মুসলিমে আরও একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৯৩
এটি ইয়েমেনবাসীর প্রশংসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি :
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
«جَاءَ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَضْعَفُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، السَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ قَبْلَ مَطْلَعِ الشَّمْسِ».
অর্থ:আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি:
‘ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা কোমল হৃদয়ের ও নম্রচিত্ত। ঈমান ইয়েমেনের এবং হিকমত ইয়েমেনের। প্রশান্তি রয়েছে ছাগল-ভেড়ার পালকদের মধ্যে। আর অহংকার ও আত্মম্ভরিতা রয়েছে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকারকারী উটের মালিকদের মধ্যে, যারা সূর্যোদয়ের দিকের তাঁবুবাসী।’
শাম ও ইয়েমেনের বরকতের দোয়ার মূল আরবি
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শামিনা ওয়া ফি ইয়ামানিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।
আরেকটি বর্ণনায় বাক্যটি এভাবে এসেছে:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَأْمِنَا، اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শা'মিনা, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি ইয়ামানিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী যখন ফিলিস্তিনের গাঁজায় জায়নবাদী বর্বর ইহুদী ইজরাইল ও তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ক্রমাগত বছরের পর বছর যুগের পর যুগ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তখন এই আরব রাষ্ট্রগুলো শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতা নারী-লিপ্সা দুনিয়াবী ভোগ-বিলাস ইত্যাদি সুখের জন্য আল্লাহর গোলামীর পরিবর্তে তারা পশ্চিমা জায়নবাদী মার্কিন ইজরাইলিদের পা চাটা গোলাম হয়ে চিরস্থায়ী রাজতন্ত্রের বা পরিবার তন্ত্রের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যুগের পর যুগ চুপ করে থেকেছে। নির্যাতিত নিপীড়িত গণহত্যায় জর্জরিত ফিলিস্তিনের গাঁজা, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, লিবিয়া পূর্ব দিকে আফগানিস্তান একের পর এক ধ্বংস করলেও আরব রাষ্ট্রগুলো মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছে। শুধু চুপ করে বসেই থাকেনি বরং এই মুসলমান অর্থাৎ প্রকৃত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর অনুসারীরা যখন এভাবে পশ্চিমা দেওয়ানবাতি শক্তির হাতে নির্যাতিত নিপীড়িত হয়ে নিহত হচ্ছে সেই কাজে নিজেদের দেশে ঘাঁটি করে তাদেরকে সহায়তা করছে এই আরব রাষ্ট্রগুলোই।
আরব রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান আলে সৌদ বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা মিত্রদেরকে নিয়ে একটি নাকে ক্ষত দেওয়া চুক্তি করেন সেই চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমারা এই আরব রাজতন্ত্রকে যুগের পর যুগ তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবে এবং তেলের নিরাপত্তা দেবে বিনিময়ে তারা কাগজে মুদ্রা তথা ডলার ছাপাবে সেই ডলার দিয়ে এই আরব রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবসা করতে হবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। যেই কাগজ ছাপিয়েই পশ্চিমা জায়নবাদীরা আজকে তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে পা চাটা গোলামে পরিণত করেছে।
সুতরাং প্রকৃত ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে উপরোক্ত হাদিসগুলোই যথেষ্ট বর্তমান সময়ের জন্য। এবং এ থেকেও স্পষ্ট হয় যে ইয়েমেন বাসীরা পায়ে স্যান্ডেল পড়ে, কারো গায়ে পোশাক আছে তো কারো গায়ে পোশাক নেই একেকজনের একেক পোশাক কোন সামরিক বাহিনীর কোন সুশৃংখল পোশাক নেই নেই কোন সুশৃংখল অস্ত্র তারপরেও 2025 সালে মার্কিন বাহিনীকে এমন পর্যদুস্ত করেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলতে বাধ্য হয়েছিলেন হয়তো ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধে আমরা পেরে উঠব না। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় ইয়েমেনের সাথে ইজরায়েল সহ পশ্চিমা বিশ্বের আরো কয়েকটি রাষ্ট্র যুদ্ধ করেছে কিন্তু কেউই টিকে থাকতে পারেনি। সুতরাং উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় আজকের দিনে যে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠী বিশেষ করে ইয়েমেনের প্রতি বিদ্রোহীদের সাথে আল্লাহর রাসূলের দোয়া যা তিনি তাদের রহমত ও বরকতের জন্য করেছিলেন তা নিয়েই তারা আছে সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে যেখানে পশ্চিমা বিশ্ব শাসনকারী শক্তিরাই পেরে উঠতে পারেনি সেখানে এই ইয়েমেনি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে অপর মুসলিম নামধারী কাফের মুশরেক ও বেইমান আরব রাষ্ট্রগুলো কিংবা তার সাথে নতুন করে মক্কা জোটের নাম করে আরো দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্র যোগ দিয়েছে এমনকি মিশর এবং আরব আমিরাত নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে বলে শোনা যাচ্ছে। উক্ত হাদিস থেকে এ কথা স্পষ্ট ভাবে বলা যায় এই শক্তির বিরুদ্ধে গোটা পশ্চিমা ইহুদী জাওয়ানবাদের শক্তি কিংবা নামধারী মুসলিম যারা মূলত মুশফিক ও কাফেরদের দলবিবাহ তারা একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করলেও ইয়েমেন বাসীদের কে পরাজিত করতে পারবেনা বরং তারা নিজেরাই যুদ্ধে পরাজিত হবে এবং নিজ নিজ দেশে নিজেদের সরকারের পতন ঘটবে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"