প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবাসী আয় বেড়ে যাওয়াসহ বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতিতে কিছু উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাচ্ছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১০ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৭ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, বৈদেশিক লেনদেনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতির বড় অংশটাই এসেছে ঋণনির্ভর উৎস থেকে। অর্থাৎ নিজস্ব আয় বৃদ্ধি পাওয়ার চেয়ে ধার করা অর্থ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘রিজার্ভের বৃদ্ধি অবশ্যই একটি ইতিবাচক খবর। তবে যদি এ বৃদ্ধি ঋণ বা সাময়িক উৎস থেকে হয়, তাহলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। আমাদের রপ্তানির এবং উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।’ নতুন বাজেটে প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে রাজস্বের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটানোর জন্য ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি, বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসাবে রপ্তানি খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী বৃদ্ধি পাচ্ছে না। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ না বেড়ে কমে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এই ধীরগতি বেশি করে দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি বাড়াতে ব্যর্থ হলে রিজার্ভ শক্ত ভিত্তি পায় না এবং তাই সামগ্রিক অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়। বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুব আশাব্যঞ্জক নয়। নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি দুটিই কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির সঙ্গে মোট বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ পয়েন্ট। এর দ্বারা বোঝা যায়, উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন এবং এর প্রভাব ভবিষ্যতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানকার ঋণ পরিশোধ ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ আগামী বছরগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ শোধের জন্য আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধুমাত্র রিজার্ভের পরিমাণ বাড়লেই হবে না, এর উৎস কতটা টেকসই সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি রপ্তানি এবং উৎপাদনের মতো স্থায়ী উৎস থেকে বৈদেশিক আয় না বাড়ে, তাহলে এই রিজার্ভ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন