প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্ট্রোকের ঝুঁকি চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্ক্রিনিং ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উল্লেখ করেন, রোগীর চাপ কমানোর জন্য শুধুমাত্র নতুন হাসপাতাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং ওয়ার্কারদের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মীরা বছরে তিন থেকে চারবার প্রতিটি পরিবারে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এর ফলে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রোগীর স্বজনেরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না কোন হাসপাতালে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এই সমস্যার সমাধানে জেলা পর্যায়ে কল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে তাকে উপযুক্ত হাসপাতালে নিতে সহায়তা করবেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, ধূমপান, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের একপাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা উচিত।
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের আয়োজনে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সচিব অধ্যাপক ডা. ফিরোজ কাদের এবং বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. একরামুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইসড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর এবং অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আইরিশ গ্রানওয়াল্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন