প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সেপ্টেম্বর মাসে জাপানে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এর ফলে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাজা খাদ্যপণ্যের অস্থিতিশীল মূল্য বাদ দিলে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মাস আগস্টে এই হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের এই হার বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি। ফলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্য মন্তব্য করেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত প্রবণতা আবারও জাপান ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে উঠে আসায় মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার পক্ষে জোরালো ভিত্তি রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়াতে পারে। এতে ডিসেম্বরে আবারও সুদের হার বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।’
মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় জাপান ব্যাংক সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সুদের হার বাড়িয়েছিল। বিশ্বজুড়ে অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো জাপানও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলার জন্য এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দুর্বলতার কারণে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাড়িভাড়া এবং মোটরযান-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্যের মতে, বাড়িভাড়ার মূল্যস্ফীতি প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে পেট্রল ও বিদ্যুতের বিলে সরকারি সহায়তা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমিয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
খাদ্য ও জ্বালানি—উভয় খাতের মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করলেও সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের এই হার বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও অতিক্রম করেছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের শেষ দিকে গৃহীত বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ এবং জ্বালানির ওপর ব্যাপক করছাড়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পূর্ববর্তী দুই পূর্বসূরি মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে রাজনৈতিকভাবে বিপদে পড়েছিলেন।
সরকার জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হবে।
তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ১০ লাখ কোটি ইয়েন (৬ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার) কমতে পারে।
এতে জাপানের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঋণ-জিডিপি অনুপাতগুলোর একটি।
প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আমদানি করা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন