প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জন চীনা নাগরিককে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৩০টিরও বেশি ল্যাপটপসহ অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম এস এম গিয়াস উদ্দিনের আদালত এ রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ৫ জন চাইনিজ এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শওকত ওসমান জানান, "গ্রেপ্তার চীনা নাগরিকদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আরো গভীরভাবে তদন্ত ও ডিভাইসগুলোর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের মঞ্জুর করেছেন।"
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মন্তব্য করেন, "সাইবার অপরাধের সত্যতা বের করা দেশের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। তেমনি তাদের আইনি মুক্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে- যদি কিনা তারা পর্যটক বা অন্যান্য কাজে কক্সবাজারে এসে থাকেন।" গ্রেপ্তার হওয়া চীনা নাগরিকদের নিয়োজিত আইনজীবী জানান, সোমবার সকাল ৯টার দিকে তাদের আদালতে আনা হয়। পরে শুনানি শেষে আদেশের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ৪টি রিসোর্টে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চীনা নাগরিকদের অনলাইন প্রতারক দলের আস্তানা আবিষ্কার করে। এ সময় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ৩০টিরও বেশি ল্যাপটপসহ প্রচুরসংখ্যক ডিভাইস জব্দ করা হয়। প্রায় দুই শতাধিক চীনা নাগরিক রিসোর্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করে চীন-দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের পুঁজি বাজারে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল বলে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে সংবাদ ছিল।
পরবর্তীতে গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সাগর পারের তারকা হোটেল সী প্যালেস ও অপর একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৬ চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় আসামিদের সহ অন্তত ৩০০ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের মামলা দায়ের করা হয়। রামু থানা পুলিশ মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত শুরু করলেও গত সপ্তাহে সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপরই গ্রেপ্তার হওয়া চীনা নাগরিকদের রিমান্ডে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন