প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মাত্র ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে।
এই ঘটনার সাথে জড়িত কিশোরীর প্রেমিক মো. রানা হাওলাদারকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ভুক্তভোগীর দুটি স্মার্টফোন ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানালেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
তিনি বলেন, মোসা. তানজিলা (১৭) ২৭ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈর এলাকায় খালার বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তী দিন ২৮ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তানজিলার মা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের মা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার স্বপ্রণোদিত হয়ে গ্রহণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত মো. রানা হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়। ২৯ জুলাই ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পেয়েছে, অটোরিকশাচালক রানা হাওলাদারের সঙ্গে নিহত তানজিলার প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে অর্থ লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন বিকেলে রানা তার অটোরিকশায় করে তানজিলাকে কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকার একটি নির্জন হাউজিং প্লটে নিয়ে যান।
সেখানে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে, একপর্যায়ে তিনি প্রথমে গলা চেপে ধরেন এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, হত্যার পর রানা ভুক্তভোগীর দুটি স্মার্টফোন, একটি রূপার চেন ও একটি ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন