প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পূর্ব শত্রুতা ও যৌতুক মামলার জের ধরে মোঃ তোফিজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পথরোধ করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসাঃ নাসরিন বেগম (৩৮) বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ১০ জানুয়ারি উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ষাঁড়বুরুজ এলাকার মোঃ তোফিজুল ইসলামের মেয়ে মোসাঃ তাসলিমা আফরোজ তিসার সাথে একই এলাকার মোঃ আতাউর রহমানের ছেলে মোঃ সেলিমের (২২) বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় তিসা বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলী আদালতে একটি মামলা (মামলা নং- ৪১২ সি/২০২৬) দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং বিবাদীরা জামিনে মুক্ত আছেন।
মামলার জের ধরে গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ ঘটিকার সময় তোফিজুল ইসলাম পার্বতীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুরস্থ আমবাগান থেকে চার্জার ভ্যানযোগে নিজ বাড়ি ষাঁড়বুরুজে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ষাঁড়বুরুজ গ্রামস্থ সোহবুলের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা বিবাদীরা তার গতিপথ রোধ করে।
অভিযোগ করা হয়, ২নং বিবাদী আতাউর রহমানের হুকুমে বিবাদীরা তোফিজুলকে গালিগালাজ শুরু করে এবং কিল, ঘুসি, লাথি, বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও শাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ১নং বিবাদী সেলিম তার কাছে থাকা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে তোফিজুলের মাথার মাঝখানে সজোরে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া আতাউর রহমান লোহার রড দিয়ে মাথার পেছনে, ৪নং বিবাদী ফিটলু লোহার শাবল দিয়ে বাম চোখের ভ্রু ও কপালে সজোরে আঘাত করেন। ৫নং বিবাদী সোহেল কোপ মারলে তা ঠেকাতে গিয়ে তোফিজুলের বাম হাতের অনামিকা আঙুল গুরুতর কেটে যায়। ৩নং বিবাদী টুটুল তাকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর চেপে বসে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
তোফিজুলের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও মামলার বাদী নাসরিন বেগম জানান, "আমার মেয়ের নামে যৌতুকের মামলা করার জেরে তারা আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। হাসপাতালে স্বামীর চিকিৎসা ও সেবাশুশ্রূষায় ব্যস্ত থাকার কারণে এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
গোমস্তাপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন