প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, মার্কেটপ্লেস এবং বিদেশে অবস্থানরত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের সরাসরি বিদেশি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছে।
এজন্য সীমান্তপারের ই-কমার্স বাণিজ্যে তরাণ্বিত করতে সংশ্লিষ্টদের আশা রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগ ব্যবসা-থেকে-ভোক্তা (বি-টু-সি) ভিত্তিক রপ্তানি কার্যক্রমকে সহজতর করতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের পণ্য তালিকাভুক্ত ও প্রদর্শন করতে পারবেন, যা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য আরও সহজ হবে।
নির্দেশিকা অনুসারে, রপ্তানিকারকরা প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষুদ্র মূল্যমানের পণ্য সিএফআর (কষ্ট অ্যান্ড ফ্রেইট) শর্তে রপ্তানি করতে পারবেন। এছাড়াও, ১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত চালানের ক্ষেত্রে ইএক্সপি ফর্ম দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। তবে, এ ধরনের চালানের সম্পূর্ণ মূল্য ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রিম নিতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায়, শিপিং ডকুমেন্ট সরাসরি বিদেশি ক্রেতার নামে ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্স কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পণ্য ফেরত বা পণ্যের গুণগত মান নিয়ে আপত্তির ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই সাথেই, আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, রেজিস্ট্রেশন, সদস্যপদ ও অন্যান্য সেবামূলক ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ দেশের আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্স কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে। এতদিন বি-টু-বি-টু-সি মডেলে বিদেশে আগাম পণ্য পাঠিয়ে বিক্রি করতে হত, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা সরাসরি বৈশ্বিক ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল বাণিজ্যের বৈশ্বিক সম্প্রসারণের এই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সহায়তা দেশের রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন