প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিলিয়ান এমবাপ্পে গায়ের জার্সিটা সাদা নয়, বরং অলরেড হওয়ার কথা ছিল। তবে একটি মুহূর্তের মধ্যে সম্পর্ক বদলে যায়। সেই মুহূর্তটি ছিল এমবাপ্পের চাওয়া। লিভারপুলের সঙ্গে কেন চুক্তি হয়নি, সেই গল্প দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছেন ফরাসি তারকা।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের। সে সময় মোনাকোর হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছিলেন এমবাপ্পে। তাকে পেতে অনেক ক্লাব যোগাযোগ শুরু করে। লিভারপুলও ছিল সেই তালিকায়। তখনকার ইংলিশ ক্লাবটির কোচ ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। এমবাপ্পের মায়ের বড় ভক্ত ছিলেন ক্লপ। তাই মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে অলরেডদের সঙ্গে চুক্তি করুক।
আলোচনার জন্য এমবাপ্পের মা প্রথমে লিভারপুলে গিয়েছিলেন। শহরটি ঘুরে দেখেন, স্টেডিয়ামে যান এবং সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেন। ক্লাবটির আতিথেয়তায় তিনি অ্যানফিল্ডের প্রেমে পড়ে যান। এমবাপ্পে অ্যানফিল্ডে খেললে স্টেডিয়ামের আবহ কেমন হবে, তা বোঝার জন্য একা গ্যালারিতে বসে বেশ কিছু ম্যাচও উপভোগ করেন।
লিভারপুল থেকে ফিরে এসে এমবাপ্পের মাকে ছেলেকে চুক্তি করার জন্য তাগাদা দেন। কিন্তু ছেলের মন গলাতে পারেননি তিনি। তখন ১৮ বছর বয়সী এমবাপ্পে নিজের শহর প্যারিস ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাননি। তাই পিএসজিতে যোগ দেন তিনি।
স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তির শেষ পর্যায়ে ছিলাম। আমার মায়ের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিল লিভারপুল, তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন সেখানেই যাই। কিন্তু আমি মায়ের কথা শুনিনি। কারণ আমি প্যারিসে খেলতে চেয়েছিলাম। তারকা হওয়ার আগে নিজের দেশ ছেড়ে যেতে চাইনি। তবে আমার মা সব সময় বলতেন— ‘তুমি লিভারপুলেই যাবে, অ্যানফিল্ডে খেলবে, আর সেটা তোমার জন্য অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা হবে’।”
এমবাপ্পের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ম্যাজেন্টা টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ক্লপ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি গোপন রাখতে ব্ল্যাকপুল থেকে ফ্রান্সের নিস শহরে পাঁচ রুমের একটি বিশাল প্রাইভেট জেট পাঠানো হয়েছিল। যাতে আকাশে চক্কর দিতে দিতে চুক্তির আলোচনা করা যায়।
সেই ঘটনা নিয়ে ক্লপ বলেন, ‘এমবাপ্পেকে পাওয়ার জন্য সব চেষ্টাই করেছিলাম। এমবাপ্পের পরিবারকে জেটে তুলে নিয়ে আকাশে চক্কর দিতে দিতে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করি। সঙ্গে সবাই মিলে সুস্বাদু খাবারও খাই। মুহূর্তটা দারুণ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি। সে প্যারিসেই চলে যায়।’
শুরুতে ধারে পিএসজিতে খেলেন এমবাপ্পে। পরে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোয় চুক্তি হয়। দীর্ঘ ৭ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এরপর ২০২৪ সালে রিয়ালে যোগ দেন তিনি। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘দিনশেষে পিএসজিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ প্যারিসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একজন তরুণের নিজ শহরের ক্লাবেই বড় তারকা হয়ে ওঠার চেয়ে সুন্দর অনুভূতি আমার কাছে আর কিছু ছিল না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন