প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে গবেষণাধর্মী মতামত প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জের সাংবাদিক ও গবেষক শেখ শাহাউর রহমান বেলাল। তিনি আনন্দ টিভির হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক চেকপোস্টের সম্পাদক।
নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। কারও মতে, তিনি ১২ রবিউল আউয়াল, কারও মতে ২ রবিউল আউয়াল এবং কারও মতে ১ রবিউল আউয়াল সোমবার ইন্তেকাল করেন।
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল তাঁর গবেষণায় ১২ ও ২ রবিউল আউয়ালের মতের পক্ষে উপস্থাপিত দলিলগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলোকে তাঁর দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ বা যুক্তিসংগত মনে হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর তাহকিক অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেন।
তাঁর গবেষণায় নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকাল সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ে ইমাম ও গবেষকদের মধ্যে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—তিনি ১১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, ইন্তেকালের মাস ছিল রবিউল আউয়াল এবং দিনটি ছিল সোমবার। তবে রবিউল আউয়ালের ১ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে ঠিক কোন তারিখে ইন্তেকাল হয়েছে—এ বিষয়ে হাদিসের মৌলিক গ্রন্থগুলোতে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থ পর্যালোচনা করে তিনি জানান, ইন্তেকালের তারিখ হিসেবে ১, ২ ও ১২ রবিউল আউয়ালের মত পাওয়া যায়। বিভিন্ন তথ্য ও তারিখের হিসাব বিশ্লেষণ করে তাঁর কাছে ১ রবিউল আউয়াল সোমবারের মতটিকেই অধিক যুক্তিসংগত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
গবেষণায় তিনি ইমাম ইবনে জুরাইজের একটি বক্তব্যের আলোকে তারিখ নির্ণয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী রবিউল আউয়ালের ১ তারিখ সোমবার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ বিষয়ে তিনি ‘সীরাতুন নবী’ (২/৪৭৭) গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ নিয়েও তাঁর গবেষণায় আলোচনা রয়েছে। প্রচলিতভাবে সফর মাসের শেষ বুধবারকে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ দিন মহানবী (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হয়েছিলেন—এমন বর্ণনাও প্রচলিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল তাঁর গবেষণামূলক বক্তব্যে আরও দাবি করেন, নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের তারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়ালকে নির্দিষ্ট করে নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসলামী ইতিহাস ও সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থে মতভেদ থাকায় বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও দলিলভিত্তিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে নবীজি (সা.)-এর জীবনী ও ইন্তেকালের তারিখ সম্পর্কে পাঠকদের আরও গভীরভাবে জানার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সীরাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবেগের পাশাপাশি প্রামাণ্য তথ্য, ঐতিহাসিক সূত্র ও যুক্তির আলোকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
গবেষণার সূত্র: শেখ শাহাউর রহমান বেলালের উপস্থাপিত তথ্য; সীরাতুন নবী, ২/৪৭৭।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন