প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কেরালায় প্রবল বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টির ফলে হড়পা বান ও ভূমিধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া, আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছে। মালাপ্পুরম, ইদুক্কি ও কোট্টায়াম জেলায় এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মালাপ্পুরমের নীলাম্বুরের নিকটবর্তী কোট্টাপুঝা নদীতে আকস্মিকভাবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। প্রবল স্রোতের কারণে নদীতে অবস্থানরত কয়েকজন ভেসে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ওই এলাকায় বৃষ্টি না হলেও উজানের বনাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে নদীর পানি কয়েক মিনিটের মধ্যে বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করেছে।
ইদুক্কির ভাট্টাভাদার কোট্টাকম্বুরে ভূমিধসে একই পরিবারের দুই সদস্য, বালাকৃষ্ণন ও চিন্নুর, নিহত হয়েছেন। বৃষ্টির সময় কৃষিজমির একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেওয়ার পর পাহাড়ের মাটি ধসে ছাউনিটির ওপর পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজন নারীও আহত হন।
কোট্টায়ামের টিকয় এলাকার ভেলাথুস্সেরিতেও ভূমিধসে তামিলনাড়ুর সঙ্গীতা অরুল লাল (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। বন্ধুর সঙ্গে ভ্যাগামন থেকে ফেরার পথে ভূমিধসের মাটি ও পাথরের আঘাতে তিনি আটকা পড়েন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি আহত হন।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইদুক্কি ও কোট্টায়ামের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছে। ওই দুই জেলায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীলাম্বুরের আমরাম্বালাম এলাকায় বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর একটি দল পাঠানো হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, কেরালায় আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা, নদী ও জলাশয়ের নিকট সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, উজানের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত হলে নিচের দিকে থাকা নদীগুলোতে আকস্মিক পানির চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি না হলেও হড়পা বানের ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সোমবার সকাল থেকে তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন