প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। যখন মানুষকে রাজধানীতে এসে ছোটখাটো সেবা নিতে হয়, তখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা তাদের নিজ নিজ এলাকায় বসেই পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ক্ষমতাবান করতে হবে। রাজধানীতে কেন মানুষ আসে, সেই প্রশ্নের গভীরে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। যদি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ সেবা পেতে মন্ত্রণালয়ে আসতে হয়, তাহলে তা দেশের শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব না দেওয়া হলে, মানুষকে সব কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হলে, মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ঢাকায় আসতে হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো উদ্যোগের বাস্তবায়ন সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাতে হবে, বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের। এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের পথ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও শেষ করাই যথেষ্ট নয়; প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সেই শিক্ষা ভবিষ্যৎ উদ্যোগে কাজে লাগাতে হবে। প্রকল্প যাদের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রকল্পটির মালিকানা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মানুষকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে নাগরিক সেবা— সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। গণতন্ত্র শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হলে হবে না; এর ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি আরো মজবুত করা সম্ভব।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের আরো বেশি সুযোগ দিতে হবে। সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারীদের সাধারণ আসনেও পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং নারীর ক্ষমতায়ন— তিনটিই শক্তিশালী হবে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে এবং তৃণমূল থেকে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের প্রধান জ্যঁ পেসমে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন