প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
> আইন-আদালত
জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা তোপের মুখে পড়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শেষে এই ঘটনা ঘটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে।
এ সময় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবীর ওপর চড়াও হন। পরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে তাদের ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা মামলা বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনায় এই মামলায় নেই। তাদের দাবি, মিথ্যা মামলায় তাদের আটক রাখা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রবিরোধীর কোনো উপদান নেই। শুধু হয়রানি করার জন্য তাদের আটক রাখা হয়েছে। আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।
তাদের বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের সামনে এসে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পরে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিএনপি পন্থি আইনজীবীরা তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দিতে দিতে আদালত চত্বর থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির দিকে নিয়ে যান। তবে ঘটনার ছবি নিতে গেলে আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক সাংবাদিকদেরকে নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তিগত টাকা পয়সার লেনদেনের বিষয় ছিল। তাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
তবে এই ব্যাপারে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী গোলাম রাব্বানী দাবি করেন, জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। পরে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আমাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে জানান, তাদের ওপর চাপ থাকে এজন্য যেন এমন স্লোগান এবং বিশৃঙ্খলা না করি। পরে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়। তিনি জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে বলেন, “আজকে কিছু আসামিদের দেখতে আসা লোকজন আদালতে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করে, এ নিয়ে মূলত ঝামেলাটা সৃষ্টি হয়।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন