প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে শীতল যুদ্ধের সময়ের একটি পুরোনো সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে ডেনমার্কের কুকুরে টানা স্লেজ টহলদল দায়িত্ব পালন করছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে মঙ্গলবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নতুন করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা স্থানের মধ্যে নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারসারসুয়াক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫০-এর দশকে ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করত। ঘাঁটিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানকার জনসংখ্যা কমে বর্তমানে কয়েক ডজন মানুষের মতো হয়েছে। অন্যদিকে, মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোলের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটি।
ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নতুন একটি চুক্তিতে সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে) চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি সম্পর্কে জানেন এমন তিনজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, চুক্তিতে সই না হওয়া পর্যন্ত এর বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে না।
রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র চুক্তিটির বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি পূর্বের একটি বক্তব্য পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, ‘মঙ্গলবারের এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করা হবে।’
ডেনমার্ক বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব ন্যাটোর অধীনে থাকবে। অর্থাৎ, এই দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলেছেন, তিনি চান যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিক। এমনকি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি বিভিন্ন সময়ে উড়িয়ে দেননি।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হুমকি সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছালে ন্যাটোর ভেতরে একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এর পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল এই চাপ ও উত্তেজনা কমানো।
শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে ১৭টি সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করত এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা ও সামরিক কর্মী ছিল। বর্তমানে সেখানে শুধু পিতুফিক স্পেস বেস চালু আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন