প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎসব, অক্টোবাফেস্ট। এই উৎসবের মধ্যে নারীদের স্কার্টের নিচে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ প্রতিরোধে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নারী দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সাইক্লিং শর্টস বিতরণ করা হচ্ছে।
উদ্যোগটি অক্টোবাফেস্টের একটি পুরনো ও জনপ্রিয় রাইড ‘টয়ফেলসরাড’ বা ‘ডেভিলস হুইল’কে কেন্দ্র করে। রাইডটির অপারেটর এলিজাবেথ পোলাচি গত তিন বছর ধরে নারীদের বিনামূল্যে শর্টস বিতরণ করে আসছেন। চলতি বছরে তিনি ১০০টিরও বেশি শর্টস বিতরণ করেছেন।
ডেভিলস হুইল একটি বৃহৎ গোলাকার প্ল্যাটফর্ম, যা রাইড শুরু হওয়ার পর দ্রুত ঘুরতে থাকে। এক পর্যায়ে আরোহীরা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এই সময় নারীদের স্কার্ট কিংবা ঐতিহ্যবাহী জার্মান পোশাক ‘ডির্ন্ডল’ ওপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করতে কিছু দর্শক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।
পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে লাখোবার দেখা হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিআরের একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে এক নারী প্রায় ৯ হাজার ইউরো আয় করেছেন।
জার্মানির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র সুডুচে জেইতুং জানিয়েছে, ডেভিলস হুইলে নারীদের ধারণ করা অন্তত ৩২ হাজার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ভিডিওতে নারীদের অন্তর্বাস দেখা গেছে। এমনকি কিছু ছবিকে ডিজিটালি সম্পাদনা করে নারীদের নগ্ন দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে।
৮০ বছর বয়সী পোলাচি বিবিসিকে বলেন, "নারীরা যাতে রাইডে উঠে নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করেন, সেটিই তার প্রধান লক্ষ্য। মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে যা করার সম্ভব, তিনি তা করতে চাই। শর্টস কিনে বিতরণ করা ব্যয়বহুল হলেও নিজের মানসিক শান্তির জন্য এটি মূল্যবান।"
ডেভিলস হুইলের তাঁবুতেও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা টানানো হয়েছে। জার্মান ও ইংরেজি ভাষার পোস্টারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "কারও স্কার্টের নিচে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করা অপরাধ।"
বাভারিয়ান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবাফেস্টে ‘আপস্কার্টিং’-এর অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাতজন। চলতি বছরও এক ৪৫ বছর বয়সী সুইস নাগরিককে এক জার্মান নারীর ডির্ন্ডলের নিচে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জার্মান আইনে কারও পোশাকের নিচে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে ডিজিটাল সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী জার্মান সংগঠন ‘হেট এইড’-এর প্রধান জোসেফিন ব্যালন বলছেন, বিদ্যমান আইন সব ধরনের পরিস্থিতিতে নারীদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে না। বিশেষ করে স্কার্ট হঠাৎ ওপরে উঠে যাওয়ার পর সেই দৃশ্যের ছবি তোলা হলে আইনের প্রয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে অক্টোবাফেস্টে ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিডিও ধারণেও কড়াকড়ি করেছে মিউনিখ কর্তৃপক্ষ। উৎসবস্থল থেকে লাইভস্ট্রিম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে ভিডিও ধারণ করতে হলে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হচ্ছে। চলতি বছর পণ্য প্রচার ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় করা ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য শত শত অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন